প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কলাপাড়ায় বেড়িবাঁধে ভাঙন: প্লাবন শঙ্কায় দুই হাজার ৫০০ পরিবার

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৪/এ পোল্ডারের হাফেজ প্যাদার হাট সংলগ্ন এলাকায় (লোন্দায়) বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বাঁধের রিভার সাইটের সেøাপ টিয়াখালী নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন মূল বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধের ওপরের সড়কও দেবে যাচ্ছে। এতে পাঁচ গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার পরিবার প্লাবনের শঙ্কায় রয়েছে। খবর ফোকাস বাংলা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫৪/এ পোল্ডারের হাফেজ প্যাদার হাট সংলগ্ন এলাকায় (লোন্দায়) বেড়িবাঁধের ২০০ ফুট বিধ্বস্ত হয়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় রাস্তাটি কাঁপছে। সেখানকার একটি ইনলেট দেবে ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ধানখালীর লোন্দা, গিলাতলা, ছইলাবুনিয়া, ধানখালী ও পাঁচ জুনিয়া গ্রাম লোনা পানিতে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় আব্দুল হালিম প্যাদা জানান, বাঁধটির এক তৃতীয়াংশ ভেঙে গেছে। ইনলেট বরাবর বাঁধ দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় ঠক ঠক করে কাঁপছে। যে কোনো সময় নদীতে বাঁধটি সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে গোটা এলাকায় লবণ পানি প্রবেশ করার ভয় রয়েছে। যেখানে বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে সেখানে টিয়াখালী নদী খুব গভীর। স্রোত বইছে প্রবলভাবে। বাঁধের এ দশায় হাজারো কৃষক পরিবারে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বাজারের শতাধিক দোকানি জানান, ঝুঁকিপুর্ণ এ বাঁধটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন। দোকানি আব্দুল মজিদ সন্যামত, সাবেক মেম্বার ফিরোজ তালুকদার, মাহবুব তালুকদার, ধান ব্যবসায়ী রব খান, কোয়েল মৃধা, সোহরাব সন্যামত, মাছের আড়তমালিক ফনি মোল্লা, মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রব হাওলাদার জানান, এ বাঁধটি ভেঙে গেলে বাঁধের  ভেতরের খালে লবণ পানি ঢুকে সর্বনাশ হয়ে যাবে। চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। ডুবে যাবে সবকিছু। দোকানি মিনারা বেগম, রীনা বেগম জানান, এ জায়গার অপদা (বাঁধ) ভাইঙ্গা গ্যালে সব ডুইব্যা যাইবে। মোরা বাড়িঘরেও থাকতে পারমুনা।

এলাকার সব শ্রেণির মানুষের দাবি এখন সিসি ব্লক ফেলে প্রটেকশন দেওয়া হলে এলাকার মানুষ চলাচলের একমাত্র বেড়িবাঁধ ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। নইলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, বাঁধটি রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।