দিনের খবর প্রথম পাতা

কাঁচামাল সরাসরি খোলাবাজারে বিক্রি করে ‘পদ্মা স্পিনিং’

উত্তরা ইপিজেডের প্রতিষ্ঠান

রহমত রহমান: নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডের প্রতিষ্ঠান পদ্মা স্পিনিং অ্যান্ড কম্পোজিট লিমিটেড। বন্ডেড প্রতিষ্ঠানটি শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করে। কিন্তু সেই কাঁচামাল প্রতিষ্ঠানের কারখানা উত্তরা ইপিজেডে যায় না, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি রাজধানীর বকশীবাজারে বিক্রি করে দেয়া হয়। মূলত রাজস্ব ফাঁকি দিতে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এভাবে খোলাবাজারে কাঁচামাল বিক্রি করে আসছে।

সম্প্রতি খোলাবাজারে বিক্রির সময় পাঁচটি কার্ভাডভ্যান-ভর্তি কাঁচামাল বিক্রির সময় আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বন্ড সুবিধার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আমদানি করা কাঁচামাল শুল্কায়নে সতকর্তা ও নজরদারি বাড়াতে সব কাস্টম হাউস, কাস্টমস স্টেশন ও কাস্টমস গোয়েন্দার সব কার্যালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ চিঠি দেয়া হয়। কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, পদ্মা স্পিনিং অ্যান্ড কম্পোজিট লিমিটেড ফিশিং, এগ্রিকালচার নেট, ফিস প্রসেসিং, মসকিউটো, ফুড প্রসেসিং, গার্ডেন ও বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন সেফটি নেট এবং হ্যাঙ্গার তৈরি করে। প্রতিষ্ঠানটি বন্ড সুবিধায় এসব পণ্যের কাঁচামাল আমদানি করে থাকে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি কাঁচামাল আমদানি করলে তা সরাসরি খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে কাস্টমস গোয়েন্দা। ১৮ জানুয়ারি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল আটকের মধ্য দিয়ে বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কাস্টমস গোয়েন্দা তথ্য পায় পদ্মা স্পিনিং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ঢাকার উর্দু রোডে বকশিবাজারের খোলাবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নজরদারি বৃদ্ধি করেন। কাঁচামাল অপসারণের সময় কাঁচামালসহ পাঁচটি কার্ভাডভ্যান আটক করা হয়। পরে সেগুলো এনবিআরের সামনে নিয়ে আসা হয়। যাচাই করে দেখা যায়, পদ্মা স্পিনিং আমদানি করা কাঁচামাল খালাসে মিশিগান ট্রেন্ড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মাধ্যমে ১৬ জানুয়ারি বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। ১৭ জানুয়ারি বিকালে ছাড় করা এসব কাঁচামাল পাঁচটি কার্ভাডভ্যানে করে উত্তরা ইপিজেডে প্রতিষ্ঠানের কারখানার উদ্দেশে রওনা হয়।

এর মধ্যে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নজরদারি শুরু করেন। কর্মকর্তারা খবর পান এসব কাঁচামাল ঢাকার খোলাবাজারে বিক্রি হয়ে যাবে। পরে রাতে উর্দু রোডের বকশিবাজারে কাভার্ডভ্যান থেকে খালাসের সময় সেগুলো আটক করা হয়। ইনভেন্ট্রি করে পলিপ্রোপাইলিন এইচডি ৬০১ সিএফ, পলিপ্রোপাইলিন ইয়ার্ন গ্রেড, পলিপ্রোপাইলিন এইচডি ৬৩১-সহ বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল পাওয়া যায়, যাতে শুল্ককর ফাঁকির পরিমাণ প্রায় ১৭ লাখ ৩১ হাজার ৮৭৫ টাকা। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করে কাস্টমস গোয়েন্দা। পরে মামলার ন্যায় নির্ণয়ের জন্য আটক করা পণ্যসহ তা রংপুর ভ্যাট কমিশনারেটে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও কাঁচামাল সরাসরি খোলাবাজারে বিক্রি করেছে বলে প্রমাণ পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা। বিশেষ করে আমদানি করা কাঁচামাল রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার না করে খোলাবাজারে বিক্রি করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি করা কাঁচামাল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে শুল্কায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ সতকর্তা ও নজরদারি বৃদ্ধি করলে হয়তো ফাঁকি রোধ করা সম্ভব হবে। সেজন্য সব কাস্টম হাউস, কাস্টমস স্টেশন ও কাস্টমস গোয়েন্দার সব অফিসকে চিঠি দিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা। সম্প্রতি কাস্টমস গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুর রউফ এ চিঠি দেন।

কাস্টমস গোয়েন্দার এক কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বন্দর থেকে সরাসরি খোলাবাজারে কাঁচামাল বিক্রি করে আসছে। কখনও কারখানায় কাঁচামাল যায় না। রাজস্ব ফাঁকি দিতে প্রতিষ্ঠানটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। রংপুর ভ্যাট কমিশনারেট এ বিষয়ে খতিয়ে দেখলে বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের চিত্র উঠে আসবে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানের ফোনে ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..