Print Date & Time : 25 October 2021 Monday 11:49 pm

কাঁচা চামড়ার সুষ্ঠু সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত করুন

প্রকাশ: July 25, 2021 সময়- 11:33 pm

উন্নয়নশীল দেশের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। এটি যুগপৎ মর্যাদার ও চ্যালেঞ্জের। আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের রপ্তানি পণ্য ও বাজার বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের অন্যতম সম্ভাবনাময় শিল্প হলো চামড়া খাত। কৃষিপ্রধান দেশে সারাবছরই গবাদি পশুর পালন হয়। কিন্তু সবচেয়ে বেশি চামড়ার জোগান দেয় ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদ। অথচ এ মৌসুমেই দেশের সর্বত্রই চামড়ার হাটে মন্দা। সরকার কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিলেও ক্রেতারা হতাশ হন। মৌসুমি ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের চামড়া নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে দেখা গেছে। তাছাড়া কোথাও সরকার নির্ধারিত দরে বিক্রি হয়নি। বিক্রি হয়েছে পিস হিসেবে। এতে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

কোরবানির ঈদে প্রান্তিক পর্যায়ের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গ্রাম থেকে চামড়া সংগ্রহ করে নিজেরাই লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে বিক্রি করতে আনেন। সেই চামড়া কিনে নিয়ে বেপারিরা চামড়ার আড়তে বিক্রি করেন। আবার আড়তদারদের কাছ থেকে ওই চামড়া বাকি বা নগদে কিনে নেন ট্যানারি শিল্পমালিকরা।

গত কয়েক বছরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার দামে বিপর্যয় হয়েছে। চামড়া খাতকে এগিয়ে নিতে এটি বড় বাধা। দেশে চামড়ার চাহিদা ও মজুত এবং আগামী দিনে চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনার ভিত্তিতে কাঁচা চামড়ার কেনাকাটা হয়। কোরবানির আগে এসব বিষয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে পরিষ্কার ধারণা না দেয়ার কারণেই বছর বছর কাঁচা চামড়া নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা দিচ্ছে বলে ধারণা। চামড়ার মূল ব্যবহারকারী হিসেবে ট্যানারিমালিকদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই ঈদের আগে চামড়ার মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি ন্যায্য দাম নিশ্চিত না হওয়ার কারণে যাতে কোরবানির চামড়া ভাগাড়ীকরণের ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। চামড়ার বর্গফুটের হিসাব নিয়েও মৌসুমি ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের বড় মতপার্থক্য রয়েছে। আড়তদার কেনে না, বিক্রিতা ফেলে দিতে বাধ্য হন। বর্তমানে আড়তদার, ট্যানারিমালিক, জুতা ও চামড়া পণ্য উৎপাদনকারীর অঘোষিত চক্র চামড়ার বাজারে কারসাজি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চামড়ার বাজার উš§ুক্ত করা হলে বাজারে কেউ অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।

সবাই জানেন, কাঁচা চামড়া যৌক্তিক দামে বিক্রি হয়নি। এরই মধ্যে কে একজন বললেন, এবার কোরবানির কাঁচা চামড়ার বাজার গত বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে। সবাই চামড়ার ভালো দাম পেয়েছে। কেউ চামড়া ফেলে দেয়নি। বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের এ দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রাখার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। চামড়ার খাতে সাধারণ মানুষকে ধরে রাখতে হলে সরকারের অন্তত ঘোষিত দামে যাতে বিক্রি হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেই সরকার দাম নির্ধারণ করে সে খাতে তাদের অসহযোগিতা কাম্য নয়। চামড়াশিল্পে দেশের এক বৃহৎ জনগোষ্ঠী জড়িত। গবাদিপশুর খামার, গরু মোটাতাজাকরণ, গোখাদ্য ব্যবসা প্রভৃতির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছে প্রান্তিক আয়ের মানুষজন। এবার হাট ছাড়াও সরাসরি খামার থেকে অনলাইনে অনেক গরু বিক্রি হয়েছে। চামড়াশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।