প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কাঁচা পাট রফতানিতে উত্থাপিত অভিযোগ খতিয়ে দেখুন

দেশে উৎপাদিত উন্নত মানের কাঁচা পাটকে নিম্ন গ্রেডের দেখিয়ে রফতানির যে অভিযোগ পাট-সুতা প্রস্তুতকারী মিল মালিকদের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে, তাকে ভিত্তিহীন বলার উপায় নেই। এর পক্ষে নানা তথ্য ও যুক্তির কয়েকটি তুলে ধরা হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজের এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে। অভিযোগগুলো কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা দরকার। জানামতে, রফতানি পণ্যের ইনভয়েসে দাম কমিয়ে দেখানো কিংবা সেটাকে নিম্নমানের উল্লেখ করা হয় মানি লন্ডারিংয়ের উদ্দেশ্যে। এমন কার্যক্রমের পেছনে কোনো মহলের ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ রয়েছে কি না খতিয়ে দেখতে হবে সেটাও। আমরা চাইব, পাট অধিদফতর এতে শিগগির দৃষ্টি দেবে। আর কোনো রফতানিকারক যাতে এমন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে না পারে, সে ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা সংস্থাটির কাছে।

বাংলাদেশ থেকে গত অর্থবছরে যে কাঁচা পাট রফতানি হয়, তার সিংহভাগই বাংলা হোয়াইট রেজেক্টেড (বিডব্লিউআর) ও বাংলা তোষা রেজেক্টেড (বিটিআর) গ্রেডের। বস্তুত এ দুটি হচ্ছে কাঁচা পাটের একেবারে নিম্নমানের গ্রেড। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠবে চাষি পর্যায় থেকে রফতানিকারকদের হাতে আসার আগ পর্যন্ত পাটের মান ‘ভালো’ থাকলেও রফতানির সময় তা ‘বাতিল’ গ্রেডের হয়ে যাচ্ছে কেন? এর সঠিক উত্তর আমাদের জানা নেই। তবে এটা খোঁজা এজন্য জরুরি যে, এর মাধ্যমে পাট খাত থেকে রফতানি আয় বাড়ানো সম্ভব। এ প্রক্রিয়ায় কেউ যদি অর্থ পাচার করতে চায়, তাদেরও ধরা সম্ভব হবে। এর পেছনে কোনো টেকনিক্যাল কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখা জরুরি। এজন্য রফতানিকারকদের সঙ্গে আলোচনায় বসা যেতে পারে। আমরা চাইব, অভিযোগ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ কার্যক্রমও চালাবে কর্তৃপক্ষ।

কাঁচা পাট রফতানিকারকদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ নতুন নয়। অনেকের হয়তো মনে আছে, গত জুলাইয়ে পাটবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির যে সভা হয়, তাতে এটি আলোচনায় স্থান পায়। এর আগে এপ্রিলে যে সভা হয়, তাতেও উচ্চমানের পাট নিম্ন গ্রেড দেখিয়ে যাতে রফতানি না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ আসে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) পক্ষ থেকে। স্বভাবতই এ প্রশ্নও উঠবে, উল্লিখিত সময়ে উত্থাপিত অভিযোগ কি খতিয়ে দেখা হয়েছে? যদি না হয়, তাহলে ধারণা বরং জোরালো হবে যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সম্মতি রয়েছে পাট অধিদফতরের। অথবা এটা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব যাদের, তারা বিরত থাকছেন বিশেষ কোনো কারণে। মনে রাখতে হবে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পাটশিল্পকে ফেলবে হুমকির মুখে।

ভালো মানের কাঁচা পাট রফতানি নিয়ন্ত্রণের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন পাট-সুতা প্রস্তুতকারী মিল মালিকরা। কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি আমলে নিলে উচ্চমানের পাট নিম্ন গ্রেড হিসেবে দেখিয়ে রফতানির মতো কর্মকাণ্ড ঘটানো সম্ভব হতো বলে মনে হয় না। এও মনে রাখতে হবে, অভ্যন্তরীণ বাজারে পাটের চাহিদা বাড়ছে এবং একে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে সুতা রফতানি করলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয় বেশি। রফতানি খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে বিরাজ করছে নেতিবাচক ধারা। স্বল্প সময়ে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ ও বৃদ্ধির মাধ্যমে এ খাত থেকে আয় বাড়ানো আমাদের পক্ষে বেশ কঠিন। এজন্য আলোচ্য বিষয়ে সুবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত কাম্য। পাট-সুতা প্রস্তুতকারী মিল মালিকদের যদি কাঁচামাল প্রাপ্তিতে আমদানিনির্ভরতা বাড়াতে হয়, তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও পড়বে তার প্রভাব। যে পণ্যের কাঁচামাল দেশেই রয়েছে, তা কম দামে রফতানি করে অভ্যন্তরীণ শিল্পের জন্য আমদানি করা কাঁচামাল-নির্ভরতা সুবিবেচনাপ্রসূত নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ হোক পাট খাত থেকে রফতানি আয় বৃদ্ধি ও দেশে এ শিল্পকে রক্ষার স্বার্থেই।