প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট উদ্বোধনকালে নৌপরিবহনমন্ত্রী জনদুর্ভোগ লাঘব হবে

 

মাদারীপুর প্রতিনিধি: ‘কাঁঠালবাড়ীতে ফেরিঘাট স্থানান্তরের ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর যাতায়াতে পরিবহন খরচ ও সময় সাশ্রয় হবে। ফেরির ফ্রিকোয়েন্সি বেড়ে যাবে। জনদুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ১৮টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার আরো সহজতর হবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। গতকাল মাদারীপুরের শিবচরে ইলিয়াছ আহমেদ চৌধুরী ফেরিঘাট (কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট) উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত শিমুলিয়া-চরজানাজাত নৌরুটটি একটি জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ নৌরুট। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে ‘পদ্মা সেতু’ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের নদী শাসন কাজের অ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী, চরজানাজাত থেকে নদী শাসন কাজ শুরু করতে হবে। সে অনুযায়ী পদ্মা সেতুর নদী শাসন কাজ শুরু করার লক্ষ্যে চরজানাজাত নদী বন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রেখে কাওড়াকান্দি এলাকায় ঘাটগুলো কাঁঠালবাড়ী এলাকায় স্থানান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মাওয়া (শিমুলিয়া) থেকে চরজানাজাত (কাওড়াকান্দি) পর্যন্ত নৌপথের দূরত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার। চরজানাজাত (কাওড়াকান্দি) নদী বন্দর কাঁঠালবাড়ী এলাকায় স্থানান্তরের ফলে নৌপথের দূরত্ব কমে দাঁড়াবে ৮ কিলোমিটারে অর্থাৎ মোট দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার হ্রাস পাবে। এক্ষেত্রে ওই নৌরুটে পরিবহন খরচ ও যাতায়াতের সময় দুই-ই বাঁচবে।

মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘‘ফেরি সার্ভিস স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য এ সরকারের বিগত মেয়াদসহ বর্তমান সময় পর্যন্ত মোট ১৭টি ফেরি নির্মাণ করা হয়েছে। ফেরিতে ওভারলোডেড ট্রাকের মালামাল পরিমাপের জন্য ছয়টি ‘ওজন সেতু’ স্থাপন এবং ছয়টি ফেরিঘাটের জন্য ছয়টি ‘রেকার’ ক্রয় করা হয়েছে। পাটুরিয়া-কাজিরহাট ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালু করা হয়েছে। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও শরীয়তপুর এবং চাঁদপুরের মতলব ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জামালপুরের বাহাদুরাবাদঘাট, গাইবান্ধার বালাসীঘাট, আরিচাঘাট ও পাবনার নরদাহের মধ্যে ফেরি চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া দক্ষিণবঙ্গের জনগণের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে ‘এম ভি বাঙালি’ এবং ‘এমভি মধুমতি’ নামে স্টিমার মডেলের বৃহৎ দুটি আধুনিক যাত্রীবাহী জাহাজ চালু হয়েছে। আরো দুটি বৃহৎ যাত্রীবাহী জাহাজ নির্মাণাধীন।”

শাজাহান খান আরো বলেন, ‘নদী খননের জন্য ড্রেজার প্রয়োজন। কিন্তু ৭৫-পরবর্তী কোনো সরকার ড্রেজার ক্রয় করেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে বিআইডব্লিউটিএ ১৩টি ড্রেজার সংগ্রহ করেছে। আরো ২০টি ড্রেজার সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।