দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের শিক্ষার হার কমেছে, বেড়েছে ব্যবসায়ী

সুজনের বিশ্লেষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদপ্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়লেও কাউন্সিলরসহ মোট প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা আগের চেয়ে কমেছে। তবে প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীর সংখ্যা গতবারের তুলনায় বেশি। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর প্রাক নির্বাচনী প্রার্থী বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে সুজনের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচনী রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের যুক্ত হওয়ার প্রবণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রবণতা জনপ্রতিনিধিদের জনসেবামূলক ভূমিকার পরিবর্তে বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গিমূলক প্রবণতার প্রসার ঘটাতে পারে। এটা বিরাজনীতিকরণের ধারা শক্তিশালী হওয়ারও একটা লক্ষণ।

সুজন জানিয়েছে, ঢাকা উত্তরের ছয়জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তিনজন (৫০ শতাংশ) ব্যবসায়ী। তারা হলেনÑবাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম, বিএনপির তাবিথ আউয়াল ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের প্রার্থী শাহীন খান। অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পাটির প্রার্থী আহাম্মদ সাজেদুল হক চিকিৎসক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাসউদ শিক্ষক এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী আনিসুর রহমান দেওয়ান সমাজসেবক।

২৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর ২০৩ জন বা ৮১ দশমিক ৮৫ শতাংশের পেশা ব্যবসা। এছাড়া ৯ জন (তিন দশমিক ৬৩ শতাংশ) তাদের পেশার কথা উল্লেখ করেননি।

উত্তরে ২০১৫ সালের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ব্যবসায়ীর হার বৃদ্ধি পেয়েছে। গতবারের ৬৭ দশমিক ২০ শতাংশের স্থলে এবার ৭২ দশমিক ৮১ শতাংশ। আর দক্ষিণে ২০১৫ সালের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ব্যবসায়ীর হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ৭১ দশমিক ২৮ শতাংশের স্থলে এবার তিন দশমিক ৫৯ শতাংশ।

মেয়র প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বেড়েছে জানিয়েছে সুজন। সংগঠনটি জানিয়েছে, ঢাকা উত্তরের ছয়জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনই (৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ) উচ্চশিক্ষিত। এদের মধ্যে দুজনের (৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ) শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর ও তিনজনের (৫০ শতাংশ) স্নাতক। তবে একজন (১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ) প্রার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তিনি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের প্রার্থী শাহীন খান।

ঢাকা উত্তরের ৫৪টি ওয়ার্ডের ২৪৮ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশ প্রার্থীর (১৫৬ জন বা ৬২ দশমিক ৯০ শতাংশ) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। এর মধ্যে এসএসসসি’র নিচেই রয়েছেন ১২৩ জন (৪৯ দশমিক ৫০ শতাংশ)। আর ঢাকা উত্তরের সর্বমোট ৩৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশের (২০৩ জন বা ৬১ দশমিক ৩২ শতাংশ) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে। শুধু এসএসসির নিচে ১৫৬ জন (৪৭ দশমিক ১৩ শতাংশ)।

ঢাকা উত্তরে ২০১৫ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার স্বল্পশিক্ষিত প্রার্থীর হার বেড়েছে (৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশের স্থলে ৬১ দশমিক ৩২ শতাংশ)।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণের সাতজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তিনজন (৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ) উচ্চশিক্ষিত। এদের মধ্যে দুজনের (২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ) শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর ও একজন (১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ) স্নাতক। তবে তিনজন (৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ) প্রার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। ঢাকা দক্ষিণের সর্বমোট ৪০৯ জন প্রার্থীর মধ্যে অধিকাংশের (২৬৬ জন বা ৬৫ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ) শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতকারী প্রার্থীদের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, স্বল্পশিক্ষিতের হার সমান রয়েছে (৬৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ)। উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর ক্ষেত্রে সামান্য কিছু অবনতি হয়েছে (১৯ দশমিক ৮৩ শতাংশের এর স্থলে বর্তমানে ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ)।

প্রার্থীদের মামলার হিসাব দেখা যায়, ঢাকা উত্তরের ছয়জন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে শুধু বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী আহাম্মদ সাজেদুল হকের বিরুদ্ধে অতীতে একটি মামলা ছিল, যা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। আর কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কখনও মামলা দায়ের হয়নি। এছাড়া উত্তরের মোট ৩৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯৯ জনের (২৯ দশমিক ৯১ শতাংশ) বিরুদ্ধে বর্তমানে, ৪৪ জনের (১৩ দশমিক ২৯ শতাংশ) বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল।

ঢাকা দক্ষিণের সাতজন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে দুজনের (২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ) বিরুদ্ধে বর্তমানে ও তিনজনের (৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ) বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল। দক্ষিণের সর্বমোট ৪০৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৯ জনের (২৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ) বিরুদ্ধে বর্তমানে ও ৫০ জনের (১২ দশমিক ২২ শতাংশ) বিরুদ্ধে অতীতে মামলা ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার দিলীপ কুমার সরকার। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, সহসভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী এবং সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রমুখ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..