দিনের খবর প্রচ্ছদ শেষ পাতা

কাগজবিহীন ভ্যাট নিবন্ধন সমন্বিতকরণে কালক্ষেপণ

রহমত রহমান: অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন আরও সহজ হচ্ছে। নিবন্ধন কার্যক্রমকে শতভাগ কাগজবিহীন (পেপারলেস) করা হচ্ছে। ভুয়া তথ্য ও সনদ দিয়ে নিবন্ধন নেয়া সব বন্ধ করা হচ্ছে। এটি হলে ট্রেড লাইসেন্স, আইআরসি, ইআরসি ও আরজেএসসি’র সনদ অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে। সে জন্য সনদ দেয়া এসব কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আইভাস সিস্টেমের সমন্বিতকরণের (ইন্টিগ্রেশন) উদ্যোগ নেয়া নিয়েছে। ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের আওতায় এ কাজ সম্পন্ন হবে।

প্রাথমিকভাবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি), যৌথমূলধনি কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধন পরিদপ্তর (আরজেএসসি), আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের (সিসিআই অ্যান্ড ই) সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের সহযোগী চেয়ে একাধিকবার চিঠি দেয়া, বৈঠক করা, চুক্তির খসড়া (এমওইউ) পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও এসব প্রতিষ্ঠানের কালক্ষেপণের কারণে সমন্বিতকরণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, বর্তমানে অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে বেশ কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে রয়েছে ট্রেড লাইসেন্সের অনুলিপি, মালিক বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি, ই-টিআইএন সনদপত্রের অনুলিপি, দোকান ও বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভবনের ভাড়ার চুক্তি-সংক্রান্ত কাগজপত্র; আমদানিকারকের ক্ষেত্রে আইআরসি; রপ্তানিকারকের ক্ষেত্রে ইআরসি; পণ্য উৎপাদনকারী হলে কারখানার ব্লু প্রিন্ট, প্লান্টের বর্ণনা, যন্ত্রপাতির বর্ণনা, উৎপাদিত পণ্য ও ব্যবহƒত উপকরণ সম্পর্কিত ঘোষণা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র (ব্যাংকের নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর, শাখা, ঠিকানাসহ) এবং লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে আরজেএসসি’র সনদপত্র ইত্যাদি।

সূত্র আরও জানায়, ট্রেড লাইসেন্স (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন), আইআরসি, ইআরসি (সিসিআই অ্যান্ড ই) এবং লিমিটেড সনদপত্র প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইভাস সিস্টেমের সমন্বয় নেই। ফলে কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন করতে ভুয়া সনদ দিলেও অনেক ক্ষেত্রে যাচাই করা সম্ভব হয় না। নিবন্ধন নিয়ে ভ্যাট ফাঁকি দিলেও ব্যবস্থা নিতে পারে না এনবিআর। এছাড়া এসব সনদ অনলাইনে আপলোড করা কষ্টসাধ্য। অনলাইন ভ্যাট নিবন্ধন কার্যক্রম শতভাগ কাগজবিহীন করা ও ভুয়া সনদ দিয়ে নিবন্ধন রোধে এসব সনদ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পে। প্রাথমিকভাবে ডিএসসিসি, ডিএনসিসি, সিসিসি, আরজেএসসি ও সিসিআই অ্যান্ড ই’র ওয়েবসাইটের সঙ্গে আইভাস সিস্টেমের সমন্বিতকরণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার সঙ্গেও এ সমন্বয় সাধন হবে।

সব প্রতিষ্ঠানকে দেয়া চিঠিতে বলা হয়, আইভাসের সবগুলো মডিউল চালুর কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরজেএসসি, সিসিআই অ্যান্ড ই, ডিএনসিসি, ডিএসসিসি ও সিসিসি জড়িত। নিবন্ধন সম্পন্ন করার সময় এসব প্রতিষ্ঠানের দেয়া সনদপত্র নম্বর ক্যাপসার করতে হয়। ওই নম্বরের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের যে নাম নিবন্ধন করা থাকে, ভ্যাট নিবন্ধন যেন একই নামে হয় তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সে জন্য সংশ্লিষ্ট এসব প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারের সঙ্গে আইভাসের সমন্বয় করা জরুরি। এ সমন্বয় প্রক্রিয়ায় একজন করদাতা আইভাস সিস্টেমে সনদের নম্বর দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে তার স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ (ভেরিফিকেশন) সম্পন্ন হবে। এতে সময় সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি ভুয়া সনদ দিয়ে নিবন্ধন নেয়া বন্ধ হবে।

সূত্রমতে, গত বছরের ৯ নভেম্বর ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডিএসসিসি, ডিএনসিসি, সিসিসি, আরজেএসসি ও সিসিআই অ্যান্ড ই প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সমন্বিতকরণের জন্য একটি খসড়া চুক্তি (এমওইউ) সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাট অনলাইন থেকে তিন সিটি করপোরেশন, সিসিআই অ্যান্ড ই ও আরজেএসসি কর্তৃপক্ষের কাছে খসড়া চুক্তির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে একাধিকভাবে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান চুক্তি ও ইন্টিগ্রেশনে কালক্ষেপণ করছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন উল্যাহ নুরী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘চুক্তির খসড়া তৈরি হয়ে গেছে। এ সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তি ও ইন্টিগেশন হয়ে যাবে।’ বক্তব্য নিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজার ব্যক্তিগত ফোন নাম্বারে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক অসুস্থ থাকায় তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

আরজেএসসি’র একজন কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, ‘এনবিআরের সঙ্গে আমাদের একটি ইন্টিগেশন রয়েছে। এখন ভ্যাট অনলাইন নতুন করে ইন্টিগেশন চাচ্ছে। বিষয়টির ওপর মতামতের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মতামত এলে সে অনুযায়ী চুক্তি হবে। তারপর ইন্টিগেশন।’

এ বিষয়ে প্রধান আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রক সোলেমান খান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’ উপ-নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, ‘আমরা কাজ করছি। সহসাই ভ্যাট অনলাইনকে চিঠি দেয়া হবে। সিদ্ধান্ত হওয়ার পর চুক্তি হবে। তারপর ইন্টিগ্রেশন। ইন্টিগেশনে একটু সময় লাগবে।’

এ বিষয়ে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প পরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, পেপারলেস করতে এবং ভুয়া সনদ বন্ধে ইন্টিগ্রেশনের বিকল্প নেই। সনদপত্র প্রদানকারী এসব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আইভাস সিস্টেমের ইন্টিগ্রেশনে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। চুক্তির খসড়া পাঠানো হয়েছে। এতে আমাদের ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কালক্ষেপণের কারণে বিলম্ব হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি, দ্রুত ইন্টিগ্রেশনের কাজ শেষ করতে। আমাদের এ উদ্যোগ সফল হলে ভবিষ্যতে সবগুলো সিটি করপোরেশন, পৌরসভার সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন সম্পন্ন করা হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..