সম্পাদকীয়

কাগজবিহীন মূসক নিবন্ধন দ্রুত কার্যকরে ব্যবস্থা নিন

মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট  হলো স্বনির্ধারণী পরোক্ষ কর। সরবরাহকৃত পণ্য বা সেবার ওপর প্রদেয় করের বিপরীতে উপকরণ কর সমন্বয় করে পণ্য বা সেবার মূল্য স্তরের প্রকৃত সংযোজনের ওপর আরোপিত করই ওই পণ্য বা সেবার মূসক। যথানিয়মে ভ্যাট আদায় করা গেলে এটি আমাদের রাজস্ব আহরণে বড় ভূমিকা রাখবে। কিন্তু পদ্ধতিগত জটিলতা কিংবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মীরা সেভাবে উপস্থাপন করতে না পারায় আমাদের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা ভ্যাট দেয়াকে ঝামেলার কাজ মনে করেন। ইচ্ছা থাকলেও তারা ভ্যাট দেন না বা দিতে চান না। ফলে প্রত্যাশিতভাবে ভ্যাট আদায় হচ্ছে না। ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও মূসকদাতাদের দুর্ভোগ লাঘবে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখন ঘরে বসে মূসক পরিশোধ করা যায়। এ-সংক্রান্ত অন্যান্য অনেক কাজ সম্পন্ন করা যায়। ভ্যাট অনলাইন প্রতিপালনকারী করদাতার জন্য প্রণোদনামূলক এবং অ-প্রতিপালনকারী করদাতার জন্য কঠোর নজরদারিমূলক ব্যবস্থা। এতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হবে, ব্যবসায় খরচ কমবে। প্রকৃত বিক্রয় মূল্যের ভিত্তিতে কর নির্ধারিত হবে। রেয়াতের ক্ষেত্র ব্যাপকভাবে বিস্তৃত এবং রেয়াত গ্রহণ পদ্ধতি সহজ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতকে (এসএমই) উৎসাহিত করা হয়েছে। ব্যবস্থাটি অনলাইনভিত্তিক হলেও ছোট করদাতাদের সুবিধার্থে সনাতন পদ্ধতিও সমান্তরালভাবে চালু রাখা হয়েছে। করদাতাদের আগাম কর পরিশোধ করতে হবে না। তারা সর্বোচ্চ ৪৫ দিন করের টাকা নিজের কাছে রাখতে পারবেন। 

পেপারলেস বা কাগজবিহীন পদ্ধতিতে কারও সহায়তা ছাড়াই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করা যায়। এটি ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ও ব্যবহারবান্ধব হবে বলেই প্রতীয়মান। অথচ গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদন মারফত জানা গেছে, ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও কতিপয় প্রতিষ্ঠানের কালক্ষেপণের কারণে সমন্বিতকরণ (ইন্টিগ্রেশন) প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মূসক-সম্পর্কিত এসব প্রতিষ্ঠানের সহযোগী চেয়ে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে, বৈঠক হয়েছে, পাঠানো হয়েছে চুক্তির খসড়া (এমওইউ)। কিন্তু অর্থপূর্ণ সাড়া পাওয়া যায়নি বলেই প্রতিবেদন সূত্রে জানা যাচ্ছে, যা কাম্য নয়।

অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন করা গেলে নিবন্ধন কার্যক্রম শতভাগ কাগজবিহীন করা যাবে বৈকি। তখন ভুয়া তথ্য ও সনদ দিয়ে নিবন্ধন নেয়া বন্ধ হবে। ট্রেড লাইসেন্স, আইআরসি, ইআরসি ও আরজেএসসির সনদ অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে। সে জন্য সনদ কর্তৃপক্ষগুলোর ওয়েবসাইটের সঙ্গে এনবিআরের আইভাস সিস্টেমের সমন্বিতকরণ (ইন্টিগ্রেশন) প্রয়োজন।

এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ায় ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। সক্ষমতা বেড়েছে বিবেচনায় উন্নয়ন সহযোগীরা অনুদান-সহায়তা কমিয়ে দেবে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব আদায়ে তৎপরতা বাড়াতে হবে। অথচ ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও কতিপয় প্রতিষ্ঠানের কালক্ষেপণে সমন্বিতকরণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। যথানিয়মে রাজস্ব আহরণের জন্য কাগজবিহীন ভ্যাট নিবন্ধন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সব পক্ষ আন্তরিক হবে বলে আমরা মনে করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..