প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কাজ শুরুর আগেই ব্যয় বৃদ্ধি ঠেকাতে হবে

প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির অভিযোগ পুরোনো। দুর্নীতির কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যায়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘বালিশ-কাণ্ড’, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘পর্দা-কাণ্ড’, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নর্থ-সাউথ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ‘বাতি-কাণ্ড’ গণমাধ্যমের কল্যাণে সাধারণ মানুষ জানে। এমন দুর্নীতি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতকারকদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য যথেষ্ট।

একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণত ডিপিপি প্রস্তুতের আগে গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই হয়। তারপরই খসড়া প্রস্তাব কয়েক দফা যাচাই-বাছাই ও কাটাছেঁড়া শেষে একনেকে অনুমোদন পায়। কিন্তু ওই ডিপিপিতে নির্ধারিত সময়ে এবং প্রথম-প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের নজির সাম্প্রতিক সময়ে নেই। স্থাপনা-অবকাঠামো নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতায় ব্যয় বেড়ে যায় প্রায়ই। এতে সাধারণ মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হয় না, দুর্ভোগও বাড়ে। এর বাইরে প্রকল্পটি ঋণে বাস্তবায়ন হলে, বোঝা জনসাধারণের ওপরই পড়ে। এই যখন আমাদের সামষ্টিক নিয়তি, তখন গতকাল শেয়ার বিজের প্রতিবেদন ‘বঙ্গবন্ধু রেল সেতু: কাজ শুরুর আগেই ব্যয় বাড়ল ৭০৪৭ কোটি টাকা’ হতাশা ও কষ্ট আরও বাড়াবে।

বারবার প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় এর কারণ আমরা জানি। মূলত প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা নকশা পরিবর্তন, ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় বৃদ্ধি, নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মপরিধি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কৌশল নেন। নিজের স্বার্থ বিবেচনা করে তারা প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার আশ্রয় নেন। কিন্তু প্রকল্প শুরুর আগেই বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়া দুঃখজনক। খবরে বলা হয়, নকশা প্রণয়নসহ বঙ্গবন্ধু রেল সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি সাত লাখ টাকা। এটি নির্মাণে সাত হাজার ৭২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা)। তবে নতুন প্রাক্কলনে নির্মাণে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাইকা ঋণ দেবে ১২ হাজার ১৪৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার অপেক্ষায় আমরা। অর্থাৎ আমাদের সক্ষমতা বেড়েছে। ফলে ঋণের সুদ বাড়বে এবং ঋণের শর্ত আগের চেয়ে কঠিনই হবে। এ ক্ষেত্রে ভুল কিংবা কমিশন বাণিজ্যের কারণে দেশ বড় ধরনের ঋণ-ফাঁদে পড়ে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বিবেচনা করে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি, কর্মীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্প শুরু হওয়ার আগেই ব্যয় বেড়ে যাওয়া সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই প্রকল্প পাস করা হয়েছে। এ ধরনের ভুল কিংবা অনিয়ম ঠেকাতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেই প্রত্যাশা।