প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কাজ শুরুর আগে সড়কের পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন

যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে ছয় লেন নির্মাণ প্রকল্প

মীর কামরুজ্জামান মনি, যশোর: যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার আগেই অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ফন্দি এঁটেছেন রাস্তার পাশের জমির মালিকরা। তড়িঘড়ি করে নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে অসংখ্য বহুতল ভবন। একতলা, দোতলা, তিনতলা ও চারতলা ভবনের পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে অসংখ্য সেমিপাকা ও টিনশেড ঘর। জমি অধিগ্রহণের টাকার পাশাপাশি স্থাপনা বাবদ অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণের আশায় নেয়া হয়েছে এ কৌশল।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট (উইকেয়ার) ফেজ ওয়ান প্রকল্পের আওতায় যশোর চাঁচড়া মোড় থেকে ঝিনাইদহের হামদহ পর্যন্ত ৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক (এন-৭) ছয় লেনে উন্নীত করা হবে। বর্তমান ২৪ ফুটের সড়কটি ১২০ ফুটে প্রশস্ত করা হবে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ১৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে এক হাজার ৪৮২ কোটি চার লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং বাকি টাকা ঋণ হিসেবে দেবে বিশ্বব্যাংক।

গতকাল সরেজমিনে যশোরের বারীনগর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পুরোনো আমলের টিনের চালা দেয়া সেমিপাকা হাজী আ. খালেক সুপারমার্কেটের সামনে নির্মাণসামগ্রী রেখে পেছনে আয়োজন চলছে তিনতলা ভবন নির্মাণের। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে প্রথম তলার ছাদ ঢালাই। পাশেই বাজারের সুপারমার্কেটটি একতলা ছিল। অল্প কিছুদিন আগে এ মার্কেটের ওপর আরও তিনটি তলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় তলায় লাগানো হয়েছে একটি মাদরাসার সাইনবোর্ড।

বারীনগর বাজারে হৈবতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম কয়েক দিন আগেই শেষ করেছেন চারতলা ভবন নির্মাণের কাজ। সেই ভবনের নিচতলায় রাইস মিলের একটি ছোট মেশিন বসিয়েছেন। বাকি তিনতলা ফাঁকা। বাজারের এক কিলোমিটার ঝিনাইদহের দিকে গেলে আব্দুস সালামের একটি ইটখোলা রয়েছে। ইটের ভাটার সামনে আরও একটি চারতলা ভবন নির্মাণাধীন। সেই ভবনের তিনতলার ছাদ এরই মধ্যে ঢালাই করা হয়েছে। চারতলার ছাদ ঢালাই চলমান। পাশে তার আরেকটি দোতলা ভবনের ছাদ ঢালাই হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, অতিরিক্ত টাকা পাওয়ার আশায় বারীনগর বাজারেই তড়িঘড়ি করে নির্মাণ করা হয়েছে অন্তত ৩০টি ভবন।

মোবারক নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ‘ভবন নির্মাণকারীদের সঙ্গে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ নির্ধারণকারী কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ারদের সখ্যের কারণেই এমনটি হয়েছে। স্থানীয়দের কারও কারও ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গেও সখ্য রয়েছে।’

এ বিষয়ে হৈবতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক বলেন, ‘২২ মার্চের পর নতুন স্থাপনা করা যাবে না, এমন একটি চিঠি পাই। অথচ এর কয়েক মাস আগে থেকে এসব ভবন নির্মাণ করা শুরু হয়েছে। আমার বিশ্বাস, এ প্রকল্পের ক্ষতিপূরণের টাকা যারা দেবেন এবং সার্ভেয়ার যারা আছেন, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে এগুলো হচ্ছে। ভবনের পাশাপাশি অনেকে পুকুরও খনন করছেন।

চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন বলেন, ‘দুই মাস আগে মাইকিং করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ পাঠিয়েও নিষেধ করেছি। এর পরও চুড়ামনকাটি বাজারে ২০টি ভবন হচ্ছে।’

উইকেয়ার ফেজ ওয়ান প্রকল্প ব্যবস্থাপক খ ম নকিবুল বারী বলেন, ‘দুবার ভিডিও সার্ভে করা হয়েছে। কেউ নতুন করে স্থাপনা তুললেই ক্ষতিপূরণ পাবে না। কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে বেশি ক্ষতিপূরণের আশায় স্থাপনা নির্মাণ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরে জয়েন্ট সার্ভে ও ভূমি অধিগ্রহণের যে প্রক্রিয়া আছে, সে অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সঙ্গে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি বলে জানান তিনি।