দিনের খবর সারা বাংলা

কামারখালী বাণিজ্যিক কেন্দ্র রক্ষার দাবি স্থানীয়দের

কেএম রুবেল, ফরিদপুর: ফরিদপুরের জেলার মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের ২০০ বছরের প্রাচীন  কামারখালী বাণিজ্যিক কেন্দ্র রক্ষার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। ঐতিহ্যবাহী এ বাজার রক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমেছেন তারা। এ বাণিজ্যিক কেন্দ্র রক্ষার দাবিতে করেছেন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশও। রেললাইন স্থাপন করার কারণ বাজারটি হুমকিতে পড়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্রে করে গড়ে উঠেছে তিনটি বেসরকারি পাটকল। আছে বহুতল মার্কেট ভবন, ব্যাংক, বিমা অফিস, এনজিওসহ পাঁচটি শিশু বিদ্যালয়, পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি বেসরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, একটি সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, একটি ফাজিল মাদরাসা ও হেফজখানা, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজসহ মসজিদ ও মন্দির।

এই বিশাল এই বাণিজ্যিক কেন্দ্র থেকে ইজারার মাধ্যমে প্রতি বছর ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে সরকারের। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার লাইসেন্স ও ইনকাম ট্যাক্স নবায়নের মাধ্যমেও প্রচুর রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। বাজারের মধ্যবর্তী রাস্তা দিয়ে চলাচল করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ। এ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকা চলছে অসংখ্য পরিবারের।

ফলে এ বিশাল বাণিজ্যিক কেন্দ্রের মধ্যদিয়ে রেললাইন স্থাপন করা হলে বেকার হয়ে পড়বে প্রায় তিন হাজার ব্যবসায়ী বলে তারা জানিয়েছেন। এছাড়াও কামারখালীর ঐতিহ্যবাহী এ বাণিজ্যিক কেন্দ্রটি অন্তত সাতটি ইউনিয়নের কৃষকের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের কেন্দ্রস্থল।

কামারখালী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম মণ্ডল বলেন, ‘কামারখালী ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার স্থায়ী ব্যবসায়ী ব্যাবসা-বাণিজ্য করে জীবিকা নির্বাহ করে। আর প্রতি শুক্র ও সোমবার হাট বসে। হাটে আশেপাশের ১৫-২০টি গ্রামের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে আসেন। প্রতি হাটে ১০-১৫ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রেলের উন্নয়ন আমরাও চাই, তবে আমাদের এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতি করে নয়। আমাদের দাবি বাজারের ভেতর দিয়ে রেললাইন না করে পাশ দিয়ে স্থাপন করা হোক।’

কামারখালী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি কাজী মতিউল ইসলাম মুরাদ বলেন, ‘১৯৪১ সালে তদানীন্তন রেল কর্তৃপক্ষ কামারখালী পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আড়কান্দিনামক স্থানের রেল সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরবর্তীতে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সরকার দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে মধুখালী হতে মাগুরা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী কামারখালী বাণিজ্যিক কেন্দ্র-সংলগ্ন কিছু জমি রেল কোম্পানি ১৯৪১ সালে অধীগ্রহণ করে। ওই জমি রেল কোম্পানি ইজারা প্রদান করেছে। এর সঙ্গে কামারখালী বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমরা চাই দখলদার উচ্ছেদ করে রেল সম্প্রসারণ কাজে ব্যবহার করবে। কামারখালী বাণিজ্যিক কেন্দ্রের পাশ দিয়ে ফাঁকা জায়গা দিয়ে মধুমতি নদীর ওপর রেলসেতু স্থাপন করে রেললাইন স্থাপন করা হোক।’ এতে সব প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ সবকিছু রক্ষা পাবে বলে তিনি জানান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..