মীর আনিস : দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল স্থলবন্দরকে ঘিরে এক আলোচিত নাম কামাল হোসেন। সাধারণ মোবাইল ফ্লেক্সিলোড ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা এই ব্যক্তি কয়েক বছরের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেনÑএমন অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তোলপাড় চলছে। তার বিরুদ্ধে চোরাচালান, শুল্ক ফাঁকি, চাঁদাবাজি এবং সাংবাদিক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামাল হোসেন বেনাপোল ৫ নম্বর দিঘিরপাড় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হক খোকনের ছেলে। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি মোবাইল রিচার্জ ও ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। পরে বেনাপোল কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসের দায়িত্ব নেওয়ার পর আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধ পণ্য পারাপারে প্রশাসনিক নজরদারি এড়াতে তিনি সাংবাদিকতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টিভির বেনাপোল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। তবে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এইচএসসি পাস কামাল নাভারণ কলেজে উš§ুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ (পাস) কোর্সে ভর্তি হয়েছেন বলে জানা যায়। আগের শিক্ষাগত সনদ নিয়েও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, তার সম্পদের উৎসের মধ্যে রয়েছে স্মাগলিং, হুন্ডি ব্যবসা ও শুল্ক ফাঁকি। কন্টিনেন্টাল কুরিয়ারের মাধ্যমে চন্দন কাঠ বহনের ঘটনায় তার নামে বিজিবির মামলা রয়েছে বলেও একাধিক সূত্র উল্লেখ করেছে। এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার স্কুল-বন্ধু ও শার্শার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আকুল হোসাইনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
কাস্টমস ও বন্দর-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নীরব চাঁদাবাজির মাধ্যমে কামাল দিঘিরপাড়ে তিনতলা বাড়ি, কাগজপুকুর এলাকায় মার্কেট এবং যশোর শহরের আরবপুর ও পুলিশলাইন এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন ও ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছেন। অভিযোগ আছে, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এড়াতে ভাই ও স্ত্রীর নামেও জমি ও সম্পদ কিনেছেন তিনি। সম্প্রতি কাস্টমসে আটক একটি পার্টসের চালান প্রভাব খাটিয়ে ছাড় করানোর চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
দিঘিরপাড় এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একসময় আর্থিক সংকটে থাকা কামাল এখন বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। দামি গাড়ি ব্যবহারসহ তার জীবনযাত্রার ধরন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কেউ মাসোহারা দিতে অস্বীকার করলে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়, এমন অভিযোগও রয়েছে। ৩১ নম্বর পচনশীল মাঠের সিন্ডিকেট থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কামাল হোসেনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে বলে জানা যায়।
এদিকে দুদকে জমা পড়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবেশপথে এ ধরনের অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপই পারে প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post