শেষ পাতা

কারখানা খুলছে চীনে, করোনা নিয়ে উদ্বেগ দেখছে না এফবিসিসিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক: এরই মধ্যে স্বল্প পরিসরে কারখানা চালু শুরু হয়েছে চীনে। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে শিপমেন্ট খুব তাড়াতাড়ি শুরু হতে যাচ্ছে বলে চীনের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এখনও সীমিত আকারে চীন থেকে বাংলাদেশে পণ্য আসছে। তাই করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগের কিছুই নেই বলে মনে করেন এফবিসিসিআই’র নেতারা।

গতকাল ‘করোনাভাইরাস: সম্ভ্যাব্য প্রভাব ও করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এফবিসিসিআই (দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বারহ অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ)।

ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ এ সংগঠনের প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, বিশ্বের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চীনের অবদান সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে আমাদের রপ্তানিনির্ভর শিল্প, স্থানীয় পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম আমদানি চীনের ওপর নির্ভরশীল। চীনের নববর্ষ উপলক্ষে জানুয়ারি মাসে বেশ কিছু দিন ছুটি ছিল। এজন্য বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ডিসেম্বরেই প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করে মজুত রাখে, যা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদা পূরণ করে। অনেকেই এক মাস বা দু’মাসের জন্য এটি করে থাকে, এবারও তা-ই করেছে।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে যে শিপমেন্ট শুরু হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। সীমিত পরিসরে এখনও হচ্ছে। করোনাভাইরাস বিশ্ব পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কেমন প্রভাব পড়বে, তা নিরূপণ করার মতো সময় এখনও হয়নি। আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। এ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আমাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। করোনাভাইরাসের কারণে একেক দেশের অর্থনীতিতে ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব পড়বে। মার্চ বা এপ্রিল নাগাদ আমরা বলতে পারব, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে। তবে প্রভাব পড়বে, এটি বলা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এক পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, এ বছরের জানুয়ারি মাসে চীন থেকে ছয় দশমিক ৭২ লাখ টন পণ্য এসেছে,  যা ২০১৯ সালের  জানুয়ারি মাসে ছিল আট লাখ ৫১ হাজার টন এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ছিল আট লাখ ৯২ হাজার টন। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের মোট বাণিজ্য ছিল প্রায় ১৪ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে আমদানি বাণিজ্য হচ্ছে ১৩ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রপ্তানি বাণিজ্যের পরিমাণ হচ্ছে ৮৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশেষ করে পোশাক খাতের ফেব্রিক্স ও সিনথেটিক ইয়ার্নের প্রধানতম উৎস চীন। ওভেন খাতের কাঁচামালের ৬০ শতাংশ ও নিট খাতের ১৫-২০ শতাংশের উৎস চীন।

ফজলে ফাহিম বলেন, চীন বাংলাদেশের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অন্যতম অংশীদার। রপ্তানি পণ্যের কাঁচামালসহ মধ্যবর্তী কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশসহ তৈরি পণ্য, যেমন ইলেকট্রনিক মোটর, সিনথেটিক ইয়ার্ন ইত্যাদি সিংহভাগই চীন থেকে আমদানি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, করোনাভাইরাসের কারণে অনেক এলসির শিপমেন্ট শুরু হয়নি। যাদের ভিন্ন উৎস থেকে পণ্য আনার সুযোগ রয়েছে, তাদের যেন ব্যাংক ক্রেডিটসীমা বাড়িয়ে দেয়। পণ্য দেরিতে আসার কারণে কোনো ব্যবসায়ীর ব্যাংকঋণ যেন ফোর্সড ঋণে পরিণত না হয়, এজন্য ব্যাংকের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাব, আগামী তিন প্রান্তিক বা ৯ মাস যেন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবসায়ীদের এসব সুবিধা দেওয়া হয়।

ফজলে ফাহিম প্রস্তাব করেন, আমাদের পণ্য আমদানির উৎস দেশ নিয়ে ভাবা দরকার। বিশেষ করে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে একক নির্ভরতা রয়েছে। পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। পণ্যর সরবরাহ ঠিক রাখতে সাপ্লাই চেইন খাতে জাতীয় স্ট্র্যাটিজি গ্রহণ করা যেতে পারে।

মতিঝিলের এফবিসিসিআই ভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনটিতে এফবিসিসিআই’র সহসভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনসহ পর্ষদের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..