প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কারণ ছাড়াই বাড়ছে ইমাম বাটন ও এইচআর টেক্সটাইলের শেয়ারদর

নিজস্ব প্রতিবেদক: তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও এইচআর টেক্সটাইল লিমিটেডের শেয়ারদর বাড়ার কোনো সঙ্গত কারণ নেই। এ দুই কোম্পানির অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চাইলে এমনটিই জানায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই)।

সূত্রমতে, অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে গত ৬ ডিসেম্বর ডিএসই নোটিস পাঠায়। কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারদর বাড়ছে বলে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ জানায়।

ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর গত ১২ কার্যদিবসের মধ্যে তিনদিন বাদে ৯ দিনই বেড়েছে। গত ২১ নভেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১০ টাকা ৬০ পয়সা, যা ৬ ডিসেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ টাকা ৯০ পয়সায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে দুই টাকা ৩০ পয়সা। অন্যদিকে, এইচ আর টেক্সটাইল লিমিটেডের শেয়ারদর গত ছয় কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিদিনই বেড়েছে। গত ২৯ নভেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২২ টাকা ২০ পয়সা, যা ৬ ডিসেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ টাকা ৭০ পয়সায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে পাঁচ টাকা ৫০ পয়সা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন ডিএসই।

উল্লেখ্য, ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের চেয়ে শূন্য দশমিক ৭৯ শতাংশ বা ১০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ১২ টাকা ৮০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দরও ছিল ১২ টাকা ৮০ পয়সা। গতকাল শেয়ারদর সর্বনিম্ন ১২ টাকা ৬০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৩ টাকায় ওঠানামা করে। ওই দিন ২৭ হাজার ৩৭২টি শেয়ার মোট ৪৭ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর আট টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৩ টাকা ৬০ পয়সায় ওঠানামা করে। ৩০ জুন ২০১৬ সালের সমাপ্ত হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে এতো টাকা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে আট টাকা ৩০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল যথাক্রমে এক টাকা ৬৪ পয়সা ও ৯ টাকা ৩১ পয়সা। ২০১৫ সালেও বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করেছিল। ওই সময় কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছিল এক কোটি ২৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যা আগের বছর লোকসান ছিল এক কোটি ৩৯ লাখ।

১০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন সাত কোটি ৭০ লাখ টাকা। জুন ক্লোজিং কোম্পানিটি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কর-পরবর্তী লোকসান করেছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ২৪ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময়ে ছিল ৩৬ পয়সা। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি লোকসান কমেছে ১২ পয়সা। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এনএভি হয়েছিল আট টাকা ছয় পয়সা, যা একই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল আট টাকা ৩০ পয়সা। কোম্পানিটির ৭৭ লাখ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩১ দশমিক ৫৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৫৩ দশমিক ০৯ শতাংশ শেয়ার। এইচ আর টেক্সটাইল ১৯৯৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের চেয়ে সাত দশমিক ৮৪ শতাংশ বা দুই টাকা ১০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ২৮ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২৮ টাকা ৭০ পয়সা। গতকাল শেয়ারদর সর্বনিম্ন ২৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৯ টাকা ২০ পয়সায় ওঠানামা করে। ওইদিন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৮৯২টি শেয়ার ৫৬১ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর তিন কোটি পাঁচ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ১৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২৯ টাকা ২০ পয়সায় ওঠানামা করে। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত ৯ মাসে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা ২৫ পয়সা এবং এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ২৩ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল যথাক্রমে ৬৪ পয়সা ও ১৫ টাকা ৫৯ পয়সা। ২০১৫ সালেও বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। ওই সময় কর-পরবর্তী আয় হয়েছিল তিন কোটি আট লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল চার কোটি ৯৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ২৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। রির্জাভের পরিমাণ ১৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

জুন ক্লোজিং কোম্পানিটি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কর-পররর্তী আয় করেছে ৫৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ইপিএস ছিল ২৩ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫৮ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস কমেছে ৩৫ পয়সা। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এনএভি হয়েছিল ১৪ টাকা ৪৬ পয়সা, যা একই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল ১৪ টাকা ২৩ পয়সা। কোম্পানিটির দুই কোটি ৫৩ লাখ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৫১ দশমিক ০৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩৪ দশমিক ২৩ শতাংশ শেয়ার।