প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কারণ ছাড়াই বাড়ছে ছয় কোম্পানির শেয়ারদর

নিজস্ব প্রতিবেদক: তালিকাভুক্ত ছয় কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার কোনো সঙ্গত কারণ নেই। কোম্পানিগুলো হলো মেঘনা সিমেন্ট মিলস লিমিটেড, গোল্ডেন সন লিমিটেড,  বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড, জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেড, শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেড ও মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এ কোম্পানিগুলোর অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চাইলে এমনটিই জানায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই)।

সূত্রমতে, অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই নোটিস পাঠায়। কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারদর বাড়ছে বলে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ জানায়।

মেঘনা সিমেন্ট মিলস লিমিটেডের শেয়ারদর গত মাসের ২৯ তারিখ থেকে শেয়ারদর ক্রমেই বেড়েছে, যা চলতি মাসের ১৮ তারিখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৯৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ১১৩ টাকা ৫০ পয়সায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১৪ টাকা ৬০ পয়সা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসসি। কিন্তু চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে শেয়ারদর ক্রমেই কমতে থাকে, যা গতকাল কমে দাঁড়ায় ১০৫ টাকা ৫০ পয়সায়।

গোল্ডেন সন লিমিটেডের শেয়ারদর চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে ক্রমেই বেড়েছে, যা চলতি মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত অব্যহত থাকে। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৮ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২২ টাকা ৪০ পয়সায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে চার টাকা ৪০ পয়সা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসসি।

বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদর চলতি মাসের ১৫ তারিখ থেকে শেয়ারদর ক্রমেই বেড়েছে, যা ২৭ তারিখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর আট টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৯ টাকা ৯০ পয়সায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে এক টাকা ৬০ পয়সা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসসি।

জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেডের শেয়ারদর চলতি মাসের ১২ তারিখ থেকে শেয়ারদর ক্রমেই বেড়েছে, যা ২৭ তারিখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর ২৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ টাকা ২০ পয়সায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ১৮ টাকা ৮০ পয়সা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসসি।

এবং শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেডের শেয়ারদর চলতি মাসের ১২ তারিখ থেকে শেয়ারদর ক্রমেই বেড়েছে, যা ২৭ তারিখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ টাকায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে আট টাকা ৮০ পয়সা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসসি।

এবং মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারদর চলতি মাসের ১২ তারিখ থেকে শেয়ারদর ক্রমেই বেড়েছে, যা ২৭ তারিখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর ছয় টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় আট টাকা ৩০ পয়সায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে দুই টাকা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসসি।

উল্লেখ্য, মেঘনা সিমেন্ট লিমিটেড ১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত ১৮ মাসের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে চার টাকা ৫৫ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৩০ পয়সা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৭১ পয়সা।

গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ বা ৭০ পয়সা কমে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ১০৫ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১০৫ টাকা ৫০ পয়সা। দিনজুড়ে ১৪ হাজার ৪৬০টি শেয়ার মোট ৭৮ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। শেয়ারদর সর্বনিম্ন ১০৪ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ১০৭ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়।

২০১৪ সালে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই বছর ইপিএস করেছিল চার টাকা ৪৮ পয়সা এবং এনএভি ছিল ৩৬ টাকা ১০ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে পাঁচ টাকা ২৩ পয়সা ও ৩৬ টাকা ৫৪ পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ১০ কোটি সাত লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ১১ কোটি ৭৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজার দরের ভিত্তিতে শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাতে ২৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ১৬৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৫৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস হয়েছে ১৬ পয়সা। এটি আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১১ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে পাঁচ পয়সা। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এনএভি দাঁড়িয়েছে ৩৫ টাকা ৪৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৩৫ টাকা ৩০ পয়সা। কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ৩৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ (সিআরএবি) লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী মেঘনা সিমেন্ট মিলস লিমিটেডের দীর্ঘ মেয়াদে ‘এ৩’ হয়েছে। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন ও ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ব্যাংকের দায়ের তথ্যের আলোকে এ রেটিং সম্পন্ন হয়েছে। কোম্পানিটির মোট দুই কোটি ২৫ লাখ ৪০০টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৪৯ দশমিক ৮১ শতাংশ শেয়ার এবং  সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাকি ৫০ দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।