প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কারণ ছাড়াই বাড়ছে দুই কোম্পানির শেয়ারদর

নিজস্ব প্রতিবেদক: তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার কোনো সঙ্গত কারণ নেই। কোম্পানিগুলো হলো ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস লিমিটেড ও জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড। এ কোম্পানিগুলোর অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চাইলে এমনটিই জানায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই)।

সূত্রমতে, অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই নোটিস পাঠায়। কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারদর বাড়ছে বলে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ জানায়।

ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস লিমিটেডের শেয়ারদর গত মাসের ১৮ তারিখ থেকে ক্রমেই বেড়েছে, যা গতকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর এক হাজার ১৪ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ২৯৫ টাকা ৯০ পয়সায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ২৯৫ টাকা ৯০ পয়সা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসসি।

জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের শেয়ারদর গত মাসের ২৮ তারিখ থেকে ক্রমেই বেড়েছে, যা গতকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৩৪ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ টাকা ৯০ পয়সায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে চার টাকা ৮০ পয়সা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসসি।

উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ১৯৭৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ বা ৯ টাকা ৮০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ এক হাজার ৩০০ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল এক হাজার ২৯৫ টাকা ৯০ পয়সা। দিনজুড়ে আট হাজার ৫৭১টি শেয়ার ৩৭১ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর এক কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। শেয়ারদর সর্বনি¤œ এক হাজার ২৯০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার ৩২৯ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারদর ৩০০ টাকা থেকে এক হাজার ৪৯৮ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। পাঁচ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৯৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ছয় কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ১০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ সময় কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪১ টাকা ৭০ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১১২ টাকা আট পয়সা। আগের বছরের একই সময় যার পরিমাণ ছিল যথাক্রমে তিন টাকা ৭৮ পয়সা ও ৭৩ টাকা ৪১ পয়সা। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে সিটি হল কনভেনশন সেন্টারে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা ছিল ১৮ ডিসেম্বর।  আর ২০১৫ সালে ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ৩৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল ৪৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর)   শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে এক টাকা ৮০ পয়সা, যা এর আগের বছরের একই সময় ৪৩ পয়সা ছিল। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি লোকসান বেড়েছে এক টাকা ৩৭ পয়সা। অন্যদিকে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভি) ১১০ টাকা ২৬ পয়সা দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময় ৭৩ টাকা ২১ পয়সা ছিল। এক বছরে এনএভি ৩৭ টাকা পাঁচ পয়সা বেড়েছে।

কোম্পানির মোট ৯ লাখ ৯৪ হাজার শেয়ার রয়েছে।

২০১৫ সালে কোম্পানিটি ১৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল, যা আগের বছর থেকে তিন শতাংশ কম। ওই সময় ইপিএস হয়েছিল দুই টাকা ৩৪ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছিল ১৬ টাকা ৪০ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে দুই টাকা ৩৫ পয়সা ও ১৬ টাকা ২৫ পয়সা।  ওই বছর কোম্পানিটি কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ২৯ কোটি ২৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল ২৭ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এক হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৩১১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ৪০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস হয়েছিল ৩৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ৬৫ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে ২৮ পয়সা। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এনএভি ছিল ১৫ টাকা ৮২ পয়সা, যা ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সময়ে ছিল ১৫ টাকা ৪৫ পয়সা। গতকাল কোম্পানিটির ১৮ কোটি ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিনজুড়ে ৪৮ লাখ ১৯ হাজার ৪৯২টি শেয়ার মোট দুই হাজার ২৫৮ বার হাতবদল হয়। শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের চেয়ে এক দশমিক ৫৭ শতাংশ বা ৬০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৩৮ টাকা ৭০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৩৮ টাকা ৯০ পয়সা। শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৩৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩৯ টাকায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ২৬ টাকা থেকে ৫৭ টাকা ৭০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারমূল্য আয় (ইপি) অনুপাত ১৬ দশমিক ৬২ এবং হালনাগাদ অনিরীক্ষিত ইপিএসের ভিত্তিতে ২৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। কোম্পানিটির ৩১ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার রয়েছে।

ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৫৬ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর কাছে ১০ দশমিক ৬৯ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৩৩ দশমিক ২৮ শতাংশ শেয়ার।