প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কারণ ছাড়াই বাড়ছে দুই কোম্পানির শেয়ারদর

নিজস্ব প্রতিবেদক: তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানি মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ও ইমাম বাটনের শেয়ার দর বাড়ার কোনো সঙ্গত কারণ নেই। এ কোম্পানিগুলোর অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এমনটিই জানিয়েছে কোম্পানিটি দুইটি।

সূত্রমতে, অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে ডিএসই নোটিস পাঠায়। কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই শেয়ারদর বাড়ছে বলে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ জানায়।

মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক লিমিটেডের শেয়ারদর চলতি মাসের ১২ তারিখ থেকে শেয়ারদর ক্রমেই বেড়েছে। যা গতদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর সাত টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ১১ টাকা ৬০ পয়সায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে চার টাকা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক মনে করছে ডিএসই।

এদিকে ইমাম বাটনের শেয়ার দরও চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে ক্রমেই বেড়েছে। যা চলতি মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ওই সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৮ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২২ টাকা ৪০ পয়সায়। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে চার টাকা ৪০ পয়সা। আর এ দর বাড়াকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছে ডিএসই।

উল্লেখ্য, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক লিমিটেড ২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় লোকসান হয়েছে এক টাকা ৩৪ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৯২ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছে দুই কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ বা এক টাকা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ১১ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১১ টাকা ৬০ পয়সা। দিনজুড়ে এক লাখ ৬২ হাজার ৯৮৫টি শেয়ার মোট ১৬০ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১৮ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১১ টাকা থেকে ১১ টাকা ৬০ পয়সায় হাতবদল হয়।

২০১৫ সালে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি লোকসান করেছিল দুই টাকা ৯ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যে দায় ছিল ২৭ টাকা ৫৭ পয়সা। এটি আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে এক টাকা ৭৮ পয়সা ও ২৫ টাকা ৪৯ পয়সা। কর-পরবর্তী লোকসান করেছে তিন কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল দুই কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ৮০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১৬ কোটি টাকা। কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৬২ কোটি ২৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৬৩ পয়সা। কর-পরবর্তী লোকসান করেছে এক কোটি ৯০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির মোট এক কোটি ৬০ লাখ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৫০ শতাংশ শেয়ার এবং  সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাকি ৫০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ইমাম বাটন লিমিটেড ১৯৯৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ‘নো ডিভিডেন্ড’ ঘোষণা করেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় লোকসান হয়েছে এক টাকা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে আট টাকা ৩০ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছে ৭৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ বা এক টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ১৭ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১৭ টাকা ১০ পয়সা। দিনজুড়ে এক লাখ ৪৫ হাজার ৬৫০টি শেয়ার মোট ১১৪ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ২৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ১৭ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়।

১০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন সাত কোটি ৭০ লাখ টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ এক কোটি ৩১ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২৪ পয়সা। কর-পরবর্তী লোকসান করেছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটির মোট ৭৭ লাখ শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩১ দশমিক ৫৩ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং  সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাকি ৫৩ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।