দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

কারসাজি করলেই শাস্তি

পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে। যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, ছাড় দেওয়া হবে না। এর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে জনগণের আস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যাতে ভবিষ্যতে কেউ আমাদের সুশাসন বিষয়ে কোনোভাবেই দোষারোপ করতে না পারে। মন্ত্রী বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। অপরাধ করলে তিনি যে-ই হোন না কেন অবশ্যই তাকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আলোচনায় বোঝা গেছে কিছু বিষয়ে বিশ্বাস-অবিশ্বাস জন্মেছে। এর পেছনে কয়েকটি কারণের মধ্যে রয়েছে ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসছে না। সেগুলোকে বাজারে আনার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি যথাযথ দামে আসার বিষয়টি দেখতে হবে। আর সুশাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আমরা ভালোভালো কোম্পানি; বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনার জন্য অবশ্যই চেষ্টা করব। কোম্পানিগুলো যাতে সঠিক দর পায়, সেই কাজটা আমার করব। যাতে আইপিওতে দর অতি মূল্যায়িত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। এটা করা হবে, যাতে পরবর্তীতে কোনো শেয়ারদর অতি মাত্রায় কমে বাজার পরিস্থিত খারাপ না হয়; সে জন্য আমরা বিশেষ কমিটি করে দিয়েছি। এ কমিটি সারা বছর পর্যবেক্ষণ করবেন। কমিটি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো কার্যক্রমে আছে, নাকি বন্ধ হয়ে গেছে ইত্যাদি দেখবে।
মন্ত্রী বলেন, একটি ইন্টারনাল অডিট ডিভিশন করা হবে। যথাযথভাবে শেয়ারদর নির্ধারণ করা হচ্ছে কি না, তা ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলসহ (এফআরসি) ওই ডিভিশন দেখবে। আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকা কোম্পানির কথা উঠে এসেছে। কিন্তু ওইসব কোম্পানির শেয়ার বেচাকেনা হচ্ছে। যেগুলোর কারখানা বন্ধ, সেসব কোম্পানির শেয়ার কীভাবে বেচাকেনা হয় এ বিষয়টিও কমিটি দেখবে। এছাড়া প্রত্যেকটি আইপিওর আর্থিক হিসাব কমিশন যথাযথভাবে দেখবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবার সহযোগিতা এবং সহায়তায় আমাদের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চাই। অর্থনীতির মৌলিক এলাকা হচ্ছে পুঁজিবাজার। সুতরাং এ মৌলিক এলাকাকে আমরা কখনও অবহেলা করতে পারি না। আমাদের সরকার অনেক চেষ্টা করেছে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে অনেকবার বক্তব্য রেখেছেন। তিনি জানেন এ বাজারের সঙ্গে আমাদের মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা জড়িত আছেন। সুতরাং সবার জন্য এ পুঁজিবাজার। এ কারণে পুঁজিবাজার সবসময় আমাদের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পুঁজিবাজারকে নিয়ে আমরা সব সময় সতর্ক অবস্থানে থাকি। যাতে করে যারা এখানে ব্যবসা করতে আসে তারা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
মন্ত্রী বলেন, কারখানা বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর বিষয়টি এফআরসি চেয়ারম্যান কালকে (আজ) থেকেই দেখবেন। পাশাপাশি অন্যান্য তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকেও তিনি দেখভাল করবেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাজারে আইপিও আনব। আইপিওগুলো যাতে সঠিক দরে আসতে পারে, সেদিকেও আমরা নজর দেব। যারা পুঁজিবাজারকে নিয়ে ভাবছেন তাদের আমরা বাজারে আনব। বিষয়টি নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি। এখন আরও কিছু কাজ বাকি আছে। এগুলো পর্যালোচনা করতে হবে। এরপরে পুঁজিবাজারের জন্য করণীয় কাজগুলো দ্রুত করা হবে। আলোচনা সভায় সবাই একমত হয়েছে যে, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই। বাজারের উন্নয়নের জন্য সরকার যেটুকু সহায়তা দিতে পারে, তা দেবে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সবাই ঐক্যমতে পৌঁছেছি যে, আমরা আমাদের সহায়তা অব্যাহত রাখব।
তিনি বলেন, ‘সরকারি কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসবে, সেটা আমি আপনাদের বলতে পারি। তবে এগুলোকে আনতে সময় দিতে হবে। কারন সর্বশেষ আর্থিক হিসাব তৈরি করতে হবে। কোম্পানির সব সম্পদ মূল্যায়নে আনতে হবে। এ জন্য সময় লাগবে। তবে নতুন কোম্পানিগুলোর অনুমোদনের ক্ষেত্রে তালিকাভুক্তির শর্ত দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং সরকারি কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসার বিষয়ে সবাই নিশ্চিত থাকেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ আয়োজিত সভায় অর্থ সচিব আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হাশেম, ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরীসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অন্য সব প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ..