মার্কেটওয়াচ

কারসাজি করে শেয়ারদর ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেই

পুঁজিবাজার যে কারণে ডিমিউচুয়ালাইজেশন করা হয়েছে এর ইতিবাচক প্রভাব বাজারে দেখা যাচ্ছে না। যখন বাজারে কোনো একটি কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ে, তখন ধরে নেওয়া হয় ওই কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থা ভালো ও ব্যবসা পরিচালনায় ভালো করছে। কিন্তু দেশের পুঁজিবাজারে উল্টো চিত্র দেখা যায়। যেমন কারসাজি করে কৃত্রিম বিক্রির চাপ তৈরি করে বা কেনার চাহিদা তৈরি করে শেয়ারের দর ওঠানামা করানো হয়। এটি দেখভাল করার জন্য কেউ সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের গ্রন্থনা ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইসিএবির কাউন্সিল মেম্বার মাহমুদ হোসেন, এফসিএ এবং কনস্টেলেশন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ বিপ্লব।
মাহমুদ হোসেন বলেন, স্বাধীনতার পর প্রায় ৪৮ বছর চলে গেছে। এই ৪৮ বছরে দেশের অর্থনীতির বেশিরভাগ খাতের সূচক ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে। বিগত চার বছর ধরে দেশের অর্থনীতিতে জিডিপি সাত দশমিকের ওপরে এবং এর মধ্যে সাত দশমিক ৯ শতাংশও হয়েছে। চলতি বছরে বাজেটে জিডিপি ধরা হয়েছে আট দশমিক দুই শতাংশ। গতকাল প্রকাশিত হয়েছে রফতানি আয়ের একটি তথ্য। গত বছরের চেয়ে রফতানি আয় অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে কোনোমতে এগোচ্ছে না। বরং পুঁজিবাজার অর্থনীতির উন্নয়নের বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে। বাজারের এ অবস্থা কোনোমতে কাম্য নয়। বাজারের এ দৈন্যদশা অর্থাৎ অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজারকে এগিয়ে নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ বাজারসংশ্লিষ্টরা। আবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিপ্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ছোট ছোট কোম্পানিগুলোকে অসৎ উপায়ে বাজারে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আসলে এটি কতটুকু সত্য বা মিথ্যা সেটাই দেখার বিষয়।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার যে কারণে ডিমিউচুয়ালাইজেশন করা হয়েছে এর ইতিবাচক প্রভাব বাজারে দেখা যাচ্ছে না। যখন বাজারে কোনো একটি কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ে, তখন ধরে নেওয়া হয় ওই কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থা ভালো ও ব্যবসা পরিচালনায় ভালো করছে। কিন্তু দেশের পুঁজিবাজারে উল্টো চিত্র দেখা যায়। যেমন কারসাজি করে বিক্রির চাপ তৈরি করে বা কেনার চাহিদা তৈরি করে শেয়ারের দর ওঠানামা করাচ্ছে। এটি দেখভাল করার জন্য কেউ সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। বাজারে দেশীয় ও বহুজাতিক ভালো কোম্পানিগুলো আনা যাচ্ছে না। সরকারি কোম্পানিগুলো বাজারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও সেটি বিভিন্ন কারণে অন্তর্ভুক্ত করতে পারছে না। আবার বাজারে অন্তর্ভুক্ত প্রায় ১৫২টি কোম্পানির আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন উঠছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা এর দায় এড়াতে পারে না।
হাসান মাহমুদ বিপ্লব বলেন, বর্তমানে বাজার মোটামুটি ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং অনেক কোম্পানি ভালো করছে। কিন্তু আবার শোনা যাচ্ছে বাজার ভালো অবস্থানে নেই। আসলে এটি আমাদের দোষ। কারণ বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী না বুঝে বাজারে বিনিয়োগ করেন। ফলে যখন শেয়ারের দর কমে যায় তখন না বুঝে আতঙ্কিত হয়ে লোকসানে শেয়ার বিক্রি করে দেন। তখন বিনিয়োগকারীরা দোষ দেন বাজারের।

শ্রুতিলিখন: শিপন আহমেদ

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..