সম্পাদকীয়

কারিগরি শিক্ষায় গড়ে উঠুক দক্ষ মানবসম্পদ

দেশে বেকারের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, কর্মসংস্থান সে হারে বাড়ছে না। প্রশিক্ষিত ও দক্ষ কর্মশক্তি কখনোই দেশ-জাতির জন্য বোঝা নয়, বরং সম্পদ। তাই কর্ম ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিকল্প নেই। এ শিক্ষা থাকলে কেউ চাকরি না পেলেও নিজে কিছু করার সক্ষমতা অর্জন করে। বিদেশেও প্রশিক্ষিত কর্মীর চাহিদা অনেক, তাদের সুযোগ-সুবিধাও বেশি।
আমাদের দেশে পাঠ্যসূচিতে কর্ম ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা তেমন নেই। কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা নামে যে পাঠ্য বিষয় রয়েছে, সেটি কেবলই তাত্ত্বিক; ব্যবহারিক নয়। কর্মসংস্থান বা পেশাগত উন্নয়নে বিদ্যমান ‘কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা’ বিষয়ের ভূমিকা খুবই কম। বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হয়। সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় দেশের সব শিক্ষার্থীর পক্ষে বৃত্তিমূলক বা কারিগরি শিক্ষা অর্জন সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই দেশের সব শিক্ষার্থীকে কারিগরি শিক্ষার আওতায় আনতে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে চলছে বইয়ের কাজ’ শীর্ষক প্রতিবেদন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে আশার সঞ্চার করবে বলেই ধারণা।
খবরে জানা যায়, দেশের সব স্কুল ও মাদরাসায় ২০২১ সাল থেকে বাধ্যতামূলকভাবে কর্মমুখী প্রকৌশল (কারিগরি) শিক্ষার পাঠদান শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। সে লক্ষ্যে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করে বই তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সংসদীয় কমিটি সুপারিশ করেছে, প্রতিটি শ্রেণিতে বছরের নির্ধারিত পাঠক্রম নির্দিষ্ট সময়ে শ্রেণি কার্যক্রমের মাধ্যমে শেষ হয় কি না সে বিষয়ে নজরদারি করার। এ সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের তৎপর থাকতে হবে।
কেবল পাঠ্যবই নয়, সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে করিগরি শিক্ষার পাঠদানেও ভিন্নতা রয়েছে। কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ প্রভৃতির পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যে বিষয়ে সে জ্ঞান নিচ্ছে সে বিষয়ের জন্য যেন তাকে বা তার পরিবারকে অন্যের শরণাপন্ন না হতে হয়। এটি করা গেলে শিক্ষার্থী জ্ঞান কাজে লাগাতে আগ্রহী হবে, তার পরিবারের খরচও কমবে। সব শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে কোনো অদক্ষ জনশক্তি রফতানি হবে না।
কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ হিসেবেই গড়ে উঠবে। তাই এ প্রক্রিয়াকে সফল করে তুলতে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও নির্দিষ্ট সময় অন্তর অগ্রগতি মূলায়ন করা প্রয়োজন।

 

 

সর্বশেষ..