কারেন্ট ও পাতা মোড়ানোয় মরে যাচ্ছে ধান

রবিউল আউয়াল রবি, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের ভালুকা ও ফুলপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আমন ক্ষেতে কারেন্ট পোকার উপদ্রব বেড়েছে। এছাড়া ব্যাকটেরিয়া জনিত (বিএলবি) পাতা মোড়ানো রোগে মরে যাচ্ছে ধান। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় কয়েকশ’ একর জমির ফসল। এ কারণে দিশেহারা অনেক কৃষক। পোকার আক্রমণ ও পাতা মোড়ানো দমনে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

ভালুকার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের কয়েকটি আমন ক্ষেত ঘুরে পোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত আবাদি জমি চোখে পড়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে জমির ধান পেকে সোনালি রঙ ধারণ করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিএলবির কারণে ধান গাছের পাতা ফ্যাকাসে হলদে রঙ ধারণ করেছে। পাশাপাশি কারেন্ট ধানের গোড়ার রস চুষে খেয়ে ফেলায় গাছ মরে যাচ্ছে।

সোনাখালীর কৃষক আহাম্মদ আলী বলেন, দুই কাঠা জমিতে এবার রোপা আমন আবাদ করেছিলাম কিন্তু পোকার আক্রমণে আমার সেই ধান মরে গেছে।

অন্য একজন কৃষক নুর মোহাম্মদ বলেন, ১০ হাজার টাকা খরচ করে ১১ কাঠা জমিতে রঞ্জিত জাতের আমন আবাদ করেছিলাম কিন্তু কারেন্টের আক্রমণে দুশ্চিন্তায় পড়েছি। স্থানীয়দের পরামর্শে জমিতে কীটনাশক দিয়েছিলাম। তারপরও ঘরে ধান তুলতে পারব কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তায় আছি।

কৃষক পান্না আলী বলেন, নিজের আবাদ করা চার কাঠা জমিসহ ইউনিয়নের প্রায় ৩০ একর জমিতে কীটনাশক দিয়েছি। আমার মতো এমন ক্ষতিতে এ গ্রামের অন্যান্য কৃষকও।

সোনাখালীসহ কারেন্ট ও বিএলবির সংক্রমণ দেখা দিয়েছে উপজেলার হবিরবাড়ী, পাড়াগাঁও, উথুরা, চামীয়াদী, ভয়াভহ, পাঁচগাঁও, চানপুর, আঙ্গার গারা, ডাকাতিয়া ও হিজলি পাড়ায়।

অন্যদিকে ফুলপুরের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের আমন কৃষক মাজরা ও পাতা মোড়ানোর আক্রমণে রোপা আমন নিয়ে রয়েছে শঙ্কায়। তারা বলছেন, যেভাবে ফসলের ক্ষেতে পোকার তাণ্ডব শুরু হয়েছে তাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

এ পোকার আক্রমণের ধরন সম্পর্কে কৃষক নায়েব আলী বলেন, সাদা ও লম্বা আকারের এক ধরনের পোকা প্রথমে ধানের পাতা মুড়িয়ে ফেলে সেখানে বাসা বাঁধে। তারপর পাতার সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। পরে ধান গাছ মরে যায়, ধানের পাতা শুকিয়ে লাল রঙের খড় হয়। এ পোকা এক ক্ষেত থেকে দ্রুত আশপাশের ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকবার কীটনাশক ক্ষেতে ছিটিয়েছি কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

কৃষক আব্দুল আওয়াল জানান, পোকার আক্রমণের কারণে ধান ঘরে তুলতে না পারলে কৃষকদের এবার না খেয়ে থাকতে হবে।

স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার চলতি মৌসুমে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রোপা আমন আবাদ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় চলতি বছর দুই লাখ ৬৮ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ করা হচ্ছে। তবে পোকা ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি কার্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) শোয়েব আহমেদ শেয়ার বিজকে জানান, আমরা এখন পর্যন্ত দুটি উপজেলায় রোপা আমনে পোকার আক্রমণের খবর পেয়েছি। পোকা নিধনে স্থানীয় কৃষি বিভাগ কাজ করছে। আশাকরি পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন   ❑ পড়েছেন  ৯০  জন  

সর্বশেষ..