প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কার্গো ভিলেজ না থাকায় বিপাকে ব্যবসায়ীরা

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: দেশের আমদানি ও রপ্তানির প্রধান গেটওয়ে চট্টগ্রাম বন্দর। পাশাপাশি চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানের শাহ আমানত বিমানবন্দর রয়েছে। কিন্তু গত ৩০ বছরেও বিমানবন্দরটিতে আন্তর্জাতিক মানের সেবা গড়ে উঠেনি। অথচ চট্টগ্রাম বন্দর, ইপিজেট, কেইপিজেট, আনোয়ারা ইপিজেট, মীরসরাই ইপিজেটসহ শিল্প-বাণিজ্যিক সহায়ক অবকাঠামোগত গড়ে উঠেছে। ফলে প্রতিদিন বিমানবাহী কার্গো পরিবহন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও গন্তব্যে কার্গো পরিবহন বাড়ছে। কিন্তু কার্গো ভিলেজ না থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম সংশ্লিষ্টদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডাস অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর। এ বন্দর দিয়ে দেশের আমদানি ও রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে। কিন্তু সেখানে নেই কার্গো ভিলেজ বা কার্গো বুথ। এতে আমদানি ও রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। সব কিছুর জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়। অথচ চট্টগ্রাম বন্দর, ইপিজেট, কেইপিজেট, আনোয়ারা ইপিজেট, মীরসরাই ইপিজেটসহ শিল্প-বাণিজ্যিক সহায়ক অবকাঠামোগত গড়ে উঠেছে। ফলে প্রতিদিন বিমানবাহী কার্গো পরিবহন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি শাহ আমানত বিমানবন্দর দিয়ে দুই থেকে তিনটি কার্গো বিমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও গন্তব্যে কার্গো পরিবহন হচ্ছে। এ কারণে বাণিজ্যিক শহরের চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রম শেষ করতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।

ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারা বলেন, এক মাসে ভয়াবহ পণ্যজট তৈরি হয়েছিল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে। কভিডের সংক্রমণ কিছুটা কমে আসায় পোশাক ও কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি বেড়ে যায়। পাশাপাশি কার্গো ভিলেজের চারটি স্ক্যানার মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এ পণ্যজট তৈরি হয়। পরে জট সামলাতে রপ্তানিকারকদের চাপে দুটি মেশিন চালু করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। অথচ এ ধরনের পণ্যজট কমাতে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর দিয়ে রপ্তানি-সুবিধা চালু করা দরকার ছিল। আর শুধু শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ দিয়ে পণ্য রপ্তানি হয়। সেখানে পণ্য স্ক্যানের জন্য সচল আছে মাত্র দুটি স্ক্যানার, তা দিয়ে বিপুল পণ্যের চাপ সামাল দেয়া অসম্ভব।

তারা আরও বলেন, সম্প্রতি শাহজালাল বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজের পণ্যজট সমস্যা সমাধানে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির প্রতিবেদনে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রপ্তানির জন্য আলাদা কার্গো ভিলেজ তৈরির প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে চট্টগ্রাম ও সিলেটে কার্গো ভিলেজ তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। তার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও বেবিচককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক বেবিচকের এক কর্মকর্তা বলেন, মূলত যাত্রীবাহী (প্যাসেঞ্জার) বিমানে পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা আছে। আর চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজ তৈরিতে যে পরিমাণ জায়গার প্রয়োজন হবে, তা নেই। কার্গো ভিলেজ করতে বাড়তি জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। অন্যদিকে পণ্য রপ্তানি করতে হলে দুটি এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন স্ক্যানার (ইডিএস) প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি কার্গো ভিলেজ পরিচালনার জন্য দেশে দক্ষ জনবলের সংকট আছে। এসব কারণে কার্গো ভিলেজ চালু করা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার ফরহাদ হোসাইন খান বলেন, চট্টগ্রাম থেকে মাঝেমধ্যে টার্টাড বিমানে কাগো পরিবহন হয়। তবে তা খুব কম। যেহেতু পাশে সমুদ্রবন্দর আছে, তাই কম খরচে পণ্য পরিবহন করার সুযোগ আছে। আর আমাদের কার্গো শেড আছে। তবে আমাদের কার্গো ভিলেজ করার ইচ্ছা আছে। এ জন্য পাশে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এসব জমিতে এখন মানুষের বসতি আছে।