প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কার্যালয় স্থাপনে ২০ একরের প্লট চায় চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর

রহমত রহমান: দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর। মিরসরাই, সীতাকুণ্ড ও সোনাগাজী উপজেলায় ৩৩ হাজার ৮০৫ একর জমিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এ অর্থনৈতিক অঞ্চল। এতে দেশীয় উৎপাদনমুখী শিল্পের পাশাপাশি শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানকে প্লট বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে শুরু করেছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান তদারকি ও সেবা প্রদানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্লট বরাদ্দ দেয়া শুরু করেছে। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে বন্ডেড কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে। এ শিল্পনগরে বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সপ্রাপ্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজীকরণ ও তদারকিতে একটি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনে ২০ একরের একটি প্লট বরাদ্দ চায় চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। সে জন্য ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি এই চিঠি দেয়া হয়।

কমিশনার একেএম মাহবুবুর রহমান সই করা চিঠিতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে দেশীয় ভোগের জন্য উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের লক্ষ্যে শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে শিল্প প্লট বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণাধীন এই শিল্পনগর পুরোপুরি চালু হলে ১৫ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের রপ্তানি হবে এবং ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন কর্মসংস্থান হবে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিমানবন্দর স্থাপনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। শিল্পনগর পুরো চালু হলে দেশীয় অর্থনীতিতে আমূল ও ইতিবাচক পরিবর্তনের সঙ্গে দেশীয় শিল্পের বিকাশ হবে।

এতে আরও বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে বিকেএমইএ’র বিপরীতে ১০০ একর, বিজিএমইএ’র বিপরীতে ৫০০ একর, বেপজার বিপরীতে ৫০০ একর এবং বিজিএপিএমইএ’র বিপরীতে ৩০০ একর শিল্প প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া দেশীয় ও বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান শিল্প স্থাপন করেছে, আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের কারখানা স্থাপনের কাজ চলছে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে সেবা প্রদানের জন্য অংশীজন সহযোগী সরকারি দপ্তরগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বিভিন্ন আকারের প্লট বরাদ্দ প্রদান করছে। এই শিল্পনগরে দেশীয় ভোগের জন্য যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হবে, তা ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় ভ্যাট কমিশনারেটের আওতাধীন পরিচালিত হবে। আর যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান শতভাগ রপ্তানিমুখী বা রপ্তানি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থাপিত হবে, তা বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা পাবে বিধায় চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের আওতাধীন পরিচালিত হবে।

চিঠিতে বলা হয়, এই শিল্পনগরে স্থাপিত সব বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের বন্ড সুবিধার সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্ন তদারকি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নিরবচ্ছিন্ন দাপ্তরিক সেবা নিশ্চিতে শিল্পনগরের অভ্যন্তরে বন্ড কমিশনারেটের একটি দপ্তর স্থাপন করা অত্যাবশ্যক। কারণ বর্তমান চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট লালখান বাজারে অবস্থিত। এই কমিশনারেট চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন বন্ডেড শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বেপজার আওতাধীন সব রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে স্থাপিত সব ধরনের শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানি-রপ্তানি, বার্ষিক নিরীক্ষা, প্রিভেন্টিভ কার্যক্রম ইত্যাদি তদারকি করে আসছে। এ কমিশনারেট যেখানে অবস্থিত, সেখান থেকে এই শিল্পনগরের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তদারকি করা অত্যন্ত দুরূহ। সে জন্য শিল্পনগরে বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থায়ী আবাসন সুবিধা, আটক পণ্যের গুদামসহ একটি বিভাগীয় কার্যালয় স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া এই শিল্পনগরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে স্থাপিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কাস্টমস-সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে সম্পাদন, অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজীকরণে এখানে বন্ড কমিশনারেটের এই কার্যালয় স্থাপন করা প্রয়োজন। সে জন্য এই শিল্পনগরে ২০ একরে একটি প্লট বরাদ্দ দিতে বেজাকে চিঠি দিতে অনুরোধ করা হয়।

উল্লেখ্য, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই থেকে ১০ কিলোমিটার এবং বন্দর শহর চট্টগ্রাম থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর অবস্থিত। ইছাখালী, চর শরত, চর মোশাররফ, চর লক্ষ্মী ও সাধুর চরে সমুদ্র উপকূলে ৩৩ হাজার একর জমিতে এটি নির্মিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য অন্যতম উপযুক্ত স্থান। বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল শহরের তুলনায় মিরসরাই এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ব্যবসা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে এটি ঢাকা-চট্টগ্রাম শিল্প করিডোরের কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। এতে উচ্চমানের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে; যা চট্টগ্রামকে একটি নেতৃস্থানীয় আঞ্চলিক ব্যবসায়িক কেন্দ্রে পরিণত করতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দেশের শিল্পের বিকাশে এটি বিশাল মাইলফলক। সমুদ্র তীরবর্তী জেগে ওঠা চর এবং পতিত জমি কাজে লাগিয়ে শিল্পাঞ্চল গড়ার স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।