আজকের পত্রিকা বাণিজ্য সংবাদ সারা বাংলা

কালবৈশাখীতে আম, লিচুসহ বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি

প্রতিনিধি, নওগাঁ: কালবৈশাখীর তাণ্ডবে নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলায় আম, লিচুসহ  বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এ তাণ্ডবে জেলার মান্দা, নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার, পত্নীতলা ও বদলগাছী উপজেলায় এ ক্ষয়ক্ষতি হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা না গেলেও এলাকাবাসীর তথ্যমতে, এসব এলাকার দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি ও বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিনের চাল উড়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে ৩০ থেকে ৪০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চলতি মৌসুমের লিচু ও আমের। ঝড়ে বিধ্বস্ত এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলেও এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

পোরশা উপজেলা সদরের মোবারক হোসেন প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রধান শিক্ষক মওদুদ আহমেদ জানান, ঝড়ে তার স্কুলের তিনটি কক্ষের টিনের চাল উড়ে গেছে এবং ক্ষতি হয়েছে শিক্ষা উপকরণের। এছাড়া এ উপজেলার প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ির চাল উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বাগানে প্রচুর আম ঝরে পড়েছে।

মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদু হালিম বলেন, ঝড়ে মান্দায় বেশকিছু ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিনের চাল উড়ে গেছে এবং প্রায় অর্ধশত বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গেছে। আমরা প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করার চেষ্টা করছি।

এদিকে সুপার সাইক্লোন আম্পানে জেলার আমবাগানগুলোর প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ভাগ আম ঝরে পড়ে। গতকালের কালবৈশাখী ঝড়েও বাগানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, তাদের কাছে পাওয়া খবর অনুযায়ী ঝড়ে পোরশায় ১০ হাজার হেক্টর আমবাগানের তিন থেকে পাঁচ শতাংশ আম ঝরে পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও তারা নিরূপণ করতে পারেননি।

আকস্মিক এ ঝড়ের কারণে আমের ক্ষতি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন জেলার আমচাষিরা। নওগাঁয় এ বছর প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে। জেলায় এ বছর আম উৎপাদন হওয়ার কথা প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন। তবে বিরূপ আবহাওয়ায় মুকুল কম আসায় এবং আম্পান ও কালবৈশাখীর কারণে আম ঝরে পড়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক আম উৎপাদিত হবে বলে মনে করছেন আমচাষি ও বাগান মালিকরা।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..