প্রচ্ছদ শেষ পাতা

কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ চায় ডিএসই-সিএসই

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ চায় দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। ফ্ল্যাট, জমি কেনা এবং হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের মতো পুঁজিবাজারেও বিনা প্রশ্নে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আয়োজিত পৃথক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল এমন দাবি জানায় ডিএসই ও সিএসই।
বাজেটে পুঁজিবাজারের গুরুত্ব দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডিএসইর প্রতিনিধিরা বলেন, বিনা প্রশ্নে পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বন্ডে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া উচিত। এর পাশাপাশি আরও পাঁচটি দাবি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ডিএসইর পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় নির্দিষ্ট কর প্রদান সাপেক্ষে ফ্ল্যাট, জমি কেনা ও ইকোনমিক জোনে বিনিয়োগ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে অর্থ পাচার রোধ হবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে। আমরা পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বন্ডেও অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ চাই। এতে পুঁজিবাজার উপকৃত হবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে।
এ সময় ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হাশেম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান, শরীফ আতিউর রহমান, মিনহাজ মান্না ইমন এবং মনোয়ারা হাকিম আলী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বোনাস লভ্যাংশ এবং অতিরিক্ত রিজার্ভের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের বিষয়ে বাজেটে যে প্রস্তাব করা হয়েছে, সে বিষয়ে ডিএসইর পরিচালকরা সংবাদ সম্মেলনে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেন। মিনহাজ মান্না ইমন প্রস্তাবের বিপক্ষে কথা বললেও রকিবুর রহমান প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন। ডিএসইর চেয়ারম্যান প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে বলেন। তিনি বলেন, বাজেটে যে প্রস্তাব করা হয়েছে, আমরা তার পক্ষে। পুঁজিবাজারের স্বার্থে যেটা ভালো আমরা সেটাই সাপোর্ট করি। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে প্রয়োজনে আইন সংশোধনও করা যেতে পারে। পৃথিবীতে কোরআন ছাড়া আর সব আইনই পরিবর্তন করা সম্ভব।
এর আগে কেএএম মাজেদুর রহমান বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য যেসব প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তাতে বাজারে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে পুঁজি খাটিয়ে বিনিয়োগকারীরা নগদ লভ্যাংশ প্রাপ্তির প্রত্যাশা করেন। কিন্তু কোম্পানিগুলোর মধ্যে নগদের পরিবর্তে বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রত্যাশিত প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হন। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বোনাস লভ্যাংশের পরিবর্তে নগদ লভ্যাংশ প্রদানকে উৎসাহিত করার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বোনাস লভ্যাংশ দিলে সেই প্রতিষ্ঠানকে বোনাস লভ্যাংশের ওপর ১৫ শতাংশ হারে কর প্রদানের বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে।
কোম্পানির অর্জিত মুনাফা থেকে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেওয়ার পরিবর্তে রিটেইনড আর্নিংস বা বিভিন্ন ধরনের রিজার্ভ হিসেবে রেখে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। এতে প্রত্যাশিত লভ্যাংশ প্রাপ্তি থেকে বিনিয়োগকারীরা বঞ্চিত হন এবং পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ ধরনের প্রবণতা রোধে কোনো কোম্পানির আর্থিক বছরে রিটেইনড আর্নিংস, রিজার্ভ প্রভৃতির সমষ্টি যদি পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হয়, তাহলে যতটুকু বেশি হবে তার ওপর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে ১৫ শতাংশ হারে কর প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা এসব প্রস্তাবকে অভিনন্দন জানাই।
এদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে পাঁচটি প্রস্তাবনা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে ডিএসই। এগুলো হচ্ছে স্টক এক্সচেঞ্জকে ডিমিউচুয়ালাইজড-পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য পূর্ণ কর অব্যাহতি দেওয়া। এসএমই মার্কেটের লেনদেনের ওপর উৎসে কর অব্যাহতি দেওয়া। স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ট্রেজারি বিল এবং বন্ডের লেনদেনের ওপর কর অব্যাহতির বিষয় সুস্পষ্টকরণ। তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে করপোরেট করহারের পার্থক্য ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা এবং স্টক এক্সচেঞ্জের ট্রেকহোল্ডারদের কাছ থেকে উৎসে কর সংগ্রহের হার হ্রাস করা।
অন্যদিকে ঢাকাস্থ সিএসইর কার্যালয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) গোলাম ফারুক বাজেটে পুঁজিবাজারে কালোটাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, বাজেটের জন্য সিএসইর যে প্রস্তাবগুলো, তার মধ্যে কোনোটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি। এগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিদ্যমান করহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা। নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আয় তিন বছর করমুক্ত রাখা। বাজেটে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয়কে করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আমাদের এক লাখ টাকায় উন্নীত করা আবশ্যক।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..