সম্পাদকীয়

কালো ধোঁয়া ছড়ানো যানবাহন বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিন

পরিবেশের দূষণের নেতিবাচক ফল আমাদের ভোগ করতে হচ্ছে। সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোয় মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যা জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। বেশ কিছুদিন ধরে বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা মাঝে মধ্যেই প্রথম স্থানে চলে আসছে, যা উদ্বেগজনক। যানবাহনের কালো ধোঁয়া, শব্দদূষণ, যানজট ভোগান্তি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি বাড়াচ্ছে। সমস্যাগুলো প্রকট হওয়ায় ঢাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দ্রুত এ দূষণ রোধে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তা বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে বৈকি।

‘মাত্রাতিরিক্ত কালো ধোঁয়া ছড়ানো যানবাহন জব্দের নির্দেশ’ শিরোনামে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে যেসব গাড়ি বেশি কালো ধোঁয়া ছড়াচ্ছে, সেসব যানবাহন জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে আইন অনুযায়ী প্রত্যেক যানবাহনের ‘অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল’ নির্ধারণ করতে বলেছেন আদালত। ইকোনমিক লাইফ পেরিয়ে যাওয়া পরিবহন নিষিদ্ধের ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোয় কয়েক বছর ধরে তীব্র দূষণে জনজীবন বিপর্যস্ত। সে দৃষ্টিকোণ থেকে এ আদেশ অত্যন্ত সময়োপযোগী। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া টায়ার পোড়ানো বা ব্যাটারি রিসাইকেলিং বন্ধে ব্যবস্থাও নিতে বলেছেন হাইকোর্ট, যা গুরুত্ববহ।

চলতি বছরের শুরু থেকে রাজধানী ঢাকায় কুয়াশার আধিক্য দেখা যাচ্ছে। শীত মওসুমে কুয়াশা থাকা স্বাভাবিক বিষয় হলেও এবার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় তা ভাবাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, রাজধানীর ধুলা, গাড়ির কালো ধোঁয়া এবং আশপাশের বিভিন্ন ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া কুয়াশার ঘনত্ব বাড়াচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান এবং চীনের কয়েকটি বড় শহর একই সমস্যায় ভুগছে। দূষণ এড়াতে তারা নানা পদক্ষেপও নিচ্ছে। আমাদেরও শহরগুলো বাসযোগ্য রাখতে হলে দূষণ রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার বিকল্প নেই। অবশ্য ইটভাটা বন্ধ, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল  রোধসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য বলে অভিমত অনেকের, যা হতাশাজনকই বটে।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তরকে এক মাসের মধ্যে গাড়ির কালো ধোঁয়া বন্ধের বিষয়ে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন। রাজধানীতে ধুলোবালি উড়া বন্ধ, ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনাসহ বেশ কিছু বিষয়ে নির্দেশনাও দিয়েছেন আদালত। বিষয়গুলো আমলে নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলো এভাবে দূষিত হওয়ার দায় পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সিটি করপোরেশনও এড়াতে পারে না। ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে এবং নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকে তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আমরা আশা করি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..