সারা বাংলা

কাশিয়ানীতে জরাজীর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

দুলাল বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। যে কোনো সময় বিদ্যালয়ের ভবন ধসে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ধসের আতঙ্ক নিয়েই ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা।
জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়ের ভবনটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৯২ শিক্ষার্থী এবং পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনের পিলারগুলো নড়বড়ে, ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে গেছে। কক্ষের ভেতরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। সামান্য বৃষ্টি হলে ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। বৃষ্টির পানিতে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নষ্ট হচ্ছে। পাশের রাস্তা দিয়ে ভারী কোনো যানবাহন গেলে ভবনটি কাঁপতে থাকে। এমন অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে এই বিদ্যালয় পাঠদান করানো হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অমিত ঢালী জানায়, তাদের স্কুলের বিল্ডিং পুরোনো হয়ে গেছে। প্রায়ই ছাদ থেকে প্লাস্টার খসে পড়ে। সব সময় তারা আতঙ্কে থাকে। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে।
অভিভাবক বিশ্বজিত সরকার জানান, স্কুলের ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পল্লী বিশ্বাস জানান, বিদ্যালয় ভবনটি ১৯৯৭ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হরিদাস বিশ্বাস জানান, ভবনটিতে এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলতে থাকলে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়ে কোনো ফল হয়নি।
উপজেলার হাতিয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান দেবদুলাল বিশ্বাস জানান, বিদ্যালয়ের ভবনটির যে অবস্থা যে কোনো সময় ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্র বালা জানান, বিদ্যালয়ের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবুও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

 

সর্বশেষ..