বিশ্ব সংবাদ

কাশ্মীরে অকালেই ঝরে পড়ছে নতুন প্রজন্ম

শেয়ার বিজ ডেস্ক: প্রাণবন্ত ও উচ্ছল ইয়াওয়ার আহমেদ ভাট। জম্মু-কাশ্মীরের অধিবাসী এ তরুণের বয়স এখন ২৩। এক দশকেরও আগে ২০০৯ সালে তার বয়স যখন ১২ বছর তখনই এক দিন একটি ভারতীয় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ছোড়া একটি টিয়ারশেল তার মাথায় এসে আঘাত করে। খবর: আনাদোলু নিউজ এজেন্সি।

কাশ্মীরি দুই তরুণী আয়শা এবং নিলুফারকে ধর্ষণ ও হত্যা করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ হচ্ছিল। এই বিক্ষোভ সমাবেশকে ভণ্ডুল করতে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা টিয়ারশেল ছুড়ে ছিল। যদিও কিশোর ভাট এই সমাবেশে অংশ নেয়নি। সেনা বাহিনীর ছোড়া সেই টিয়ারশেলের আঘাতের ফলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন ভাট।

ভাটের বাবা মো. ইব্রাহিম সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমরা জানতাম না সমাবেশ হচ্ছে। ভাট ঘর থেকে বের হয়ে সামনের একটি দোকানে বিস্কুট কিনতে গিয়েছিল। দোকান থেকে সমাবেশ অনেক দূরে ছিল। কিন্তু সেই সমাবেশ থেকেই তার মাথায় টিয়ারশেল এসে আঘাত করে।

পরবর্তীতে সমাবেশেটি দোকানের দিকেই এগিয়ে আসে। গোলযোগের মধ্যে পড়ে পুলিশের লাটির আঘাতে ডান পায়ের নিচের দিকে ভেঙে গিয়েছে। ভাঙা পা এখনও ঠিক হয়নি। লোহাড় রড লাগানো রয়েছে।

শরীরের অনেক জায়গাই অবশ হয়ে গিয়েছে বারুদের পার্শপ্রতিক্রিয়ায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইয়াওয়ার আহমেদের পুরো শরীরের ৭৫ শতাংশই অবশ বা প্যারালাইসিস হয়ে গিয়েছে ধীরে ধীরে। গত ১১ বছর ধরেই ট্রমার মধ্যে দিয়ে রয়েছে সে।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ঘটনা পর থেকে ভাট আর স্কুলে যেতে পারছে না। স্কুল ও এলাকার খেলার সাথী বন্ধুদের হারিয়েছে। সে শুধু কোনো এক জায়গায় বসেই দিন পার করে দেয়। এই সময়ে সে তার মাকেও হারিয়েছে। এখন তার দেখভাল করার মতোও তেমন কেউ নেই বলে জানিয়েছেন ভাটের বাবা মো. ইব্রাহিম।

সমাবেশ স্থল থেকে অনেক দূরে ছিল ভাট। কিশোর ভাট যে সমাবেশে অংশ নেয়নি তার প্রমাণ পেয়ে স্বীকারও করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের কাছে এ ঘটনায় ভাটের জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে। সমাবেশে অংশ না নেওয়ায় ভাটের ক্ষতি পূরণের আবেদন গ্রহণ করেছে প্রশাসন। কিন্তু ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো ক্ষতি পূরণ পায়নি তার পরিবার।

ঘটনার ১১ বছর পর হলেও দুঃসহ জ্বালা ও বেদনা নিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন ভাট। তার বাবা মো. ইব্রাহিম জানান, ‘ভাটের চিকিৎসা করতে গিয়ে আমার সহায়-সম্বল সব কিছুই বিক্রি করতে হয়েছে। এমনকি আমার আয়ের একমাত্র উৎস দোকানটি পর্যন্ত বিক্রি করেছি। দুই মেয়ের গহণা বিক্রি করে দিয়েছি।’

প্রশাসনের ভুলের কারণে আমি এখন সর্বস্বান্ত। জম্মু-কাশ্মীরের স্থানীয় প্রশাসন যা স্বীকারও করেছিল আমার ছেলের কোনো ভুল ছিল না। তাদের ভুলের ক্ষতিপূরণ এখনও দিল না আমাদের। এটি তাদের অবশ্যই পালন করা উচিত বলে জানান মো. ইব্রাহীম। এভাবেই ঝড়ে পড়ছে কাশ্মীরের সম্ভাবনাময় আগামী প্রজন্মরা। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এটি এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে তারা বড় হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..