বিশ্ব বাণিজ্য

কাশ্মীরে অচলাবস্থায় ১০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতি

ব্যবসায়ীদের প্রধান সংগঠন কেসিসিআই’র দাবি

শেয়ার বিজ ডেস্ক: গত আগস্টে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ করে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও রাজ্য মর্যাদা বাতিল করে দেশটির সরকার। এরপর থেকে উপত্যকাটিকে দেশের অন্যান্য অংশের পাশাপাশি বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। এতে এখন পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রধান সংগঠন কাশ্মীর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেসিসিআই)। ক্ষতিপূরণের জন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করারও পরিকল্পনা করছে সংগঠনটি। খবর: রয়টার্স।

প্রতিবেশী পাকিস্তানের ‘মদতে’ উপত্যকায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ‘সন্ত্রাসবাদ দমনে’ গত আগস্টে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক মর্যাদা বিলুপ্ত করে এলাকাটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ পদক্ষেপ কাশ্মীরের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে বলে সে সময় নয়াদিল্লির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল। বিজেপি সরকারের সে আশ্বাসকে এখন ‘চাতুরি’ বলছে কেসিসিআই। দীর্ঘদিন ধরে হিমালয়ের এ অঞ্চলটিকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার প্রতিবাদে ও বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কায় বাসিন্দারা তাদের বাজার এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে রেখেছেন বলেও জানিয়েছে উপত্যকার এ প্রধান ব্যবসায়িক সংগঠনটি।

কেসিসিআই’র জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নাসির খান জানিয়েছেন, তাদের অনুমানে সেপ্টেম্বর পর্যন্তই অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল অন্তত ১০ হাজার কোটি রুপি  বা ১৪০ কোটি ডলার। ক্ষতির অঙ্ক এখন আরও বেড়েছে বলে ধারণা তার। টেলিযোগাযোগ বন্ধ করে রাখায় কেসিসিআই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন তিনি। নাসির বলেন, ‘আমরা আদালতকে বাইরের কোনো সংস্থাকে নিয়োগ দিতে বলব, যারা ক্ষতি পর্যালোচনা করে দেখবে। কেননা, এটি আমাদের আয়ত্তের বাইরে।’ টেলিযোগাযোগের বদলে সংগঠনটিকে ব্যবসায়ীদের কাছে কর্মী পাঠিয়ে তথ্য জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কেসিসিআই’র এ দাবি প্রসঙ্গে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আগস্টে কাশ্মীরের মর্যাদা তুলে নেওয়ার আগে টেলিযোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা সংকটকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে ভারত উপত্যকাটিতে পর্যটকদের ভ্রমণে লাগাম টানে। আগে থেকেই সেখানে সামরিক বাহিনীর বিপুল সদস্যের উপস্থিতি সত্ত্বেও আরও সৈন্য পাঠানো হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..