বিশ্ব সংবাদ

কাশ্মীরে সংঘর্ষে পুলিশসহ নিহত ২

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদের পর প্রথমবারের মতো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক পুলিশসহ দুজন নিহত হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গতকাল বুধবার উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে বারামুল্লা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে কাশ্মীর ইস্যুতে ফের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সঙ্গে বিরোধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। খবর: বিবিসি ও এএফপি।
পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে সৈন্যরা বারামুল্লার একটি অংশে অভিযান চালায়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের একজন পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালায়। ওই সময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে বিক্ষোভকারীদের একজন নিহত হন। পরে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই একজনের মৃত্যু হয়।
সংবাদমাধ্যম জানায়, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে দেশটির স্বাধীনতাকামীরা। ভারত সরকারের এ সিদ্ধান্তে শ্রীনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে বিপুলসংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
গত মঙ্গলবার এনবিসি নিউজের সঙ্গে আলাপকালে টাম্প কাশ্মীর ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তাব দেন। এর মাসখানেক আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পাশে বসিয়ে একই ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন তিনি। তবে তখন তার ওই প্রস্তাব নিয়ে ভারতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
এর আগে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। একই বিষয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে টেলিফোনও করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। টেলিফোনে জম্মু ও কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে ‘নমনীয় ভাষা’ ব্যবহার করতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বলা হয়। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইমরান খানকে ফোন করেন ট্রাম্প।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও ফোনালাপ হয় ট্রাম্পের। প্রায় ৩০ মিনিট স্থায়ী সে কথোপকথনে পাকিস্তানি নেতাদের ‘চরম বাগ্বিতণ্ডা এবং ভারতবিরোধী সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার’ বিষয়টি উত্থাপন করেন মোদি।
হোয়াইট হাউজ বলছে, ফোনালাপের সময় ট্রাম্প জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে ইমরানকে নমনীয় ভাষা ব্যবহার করতে বলেছেন। ট্রাম্প উভয় পক্ষকেই সংযত হতে আহ্বান জানিয়েছেন।
ট্রাম্প ও ইমরান খান উভয়েই যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে বলেছে, ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপচারিতায় মোদি সন্ত্রাস ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ তৈরি এবং আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ রোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ পরিস্থিতিতে ভারতবিরোধী সহিংস বক্তব্য এবং উসকানি আঞ্চলিক শান্তির জন্য কল্যাণকর নয়।
গত ৫ আগস্ট ভারতের বর্তমান বিজেপিশাসিত কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে দ্বিখণ্ডিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। রাজ্যটিকে দ্বিখণ্ডিত করে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সৃষ্টির সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ভারতীয় হাইকমিশনারকে বহিষ্কার করে পাকিস্তান। নয়াদিল্লির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করার সিদ্ধান্ত জানায় তারা। ভারত অবশ্য জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পদক্ষেপকে একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে বিবেচনা করছে। তাদের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে ‘বাস্তবতা মেনে নেওয়ার’ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার পাসিত্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি এআরওয়াই নিউজ টেলিভিশনকে বলেন, ‘আমরা কাশ্মীরের ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সব আইনি দিক বিবেচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এ মামলাটিতে কেন্দ্রীভূত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি। এ বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে নিবে কিনা সেটি পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় উল্লেখ করে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, কাশ্মীর বিষয়ে বহুপক্ষকে যুক্ত করে কোনো সমাধান পাওয়া যাবে না। উত্তর হচ্ছে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সরাসরি আলোচনা।’

সর্বশেষ..