বিশ্ব সংবাদ

কাশ্মীর সমস্যার মধ্যস্থতায় সাহায্য চেয়েছিলেন মোদি

ইমরান খানকে ট্রাম্প

শেয়ার বিজ ডেস্ক: প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গত সোমবার হোয়াইট হাউজে বৈঠক করেন এ দুই নেতা। বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, কাশ্মীর সমস্যার মধ্যস্থতা করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্রাম্পও সে প্রস্তাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে ট্রাম্পের এমন বক্তব্য উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে এমন কোনো অনুরোধ করেননি মোদি। খবর রয়টার্স।
ট্রাম্প জানান, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ৭০ বছর ধরে চলা কাশ্মীর সমস্যা অবসানের লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যদি সাহায্য করতে পারি, তবে মধ্যস্থতাকারী হতেই পছন্দ করব। আমার যদি এখানে কোনো ভূমিকা থাকে, তাহলে আমাকে জানাবেন।’
তবে ট্রাম্পের এ দাবি অস্বীকার করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাবেশ কুমার এক টুইটবার্তায় বলেন, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে মধ্যস্থতা করার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য আমরা দেখেছি। বাস্তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের কোনো অনুরোধ করেননি।
আরেক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে অমীমাংসিত সব ইস্যুর ক্ষেত্রে ভারত বরাবরই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পক্ষে। তবে যেকোনো কার্যক্রমের জন্য পাকিস্তানকে অবশ্যই আগে সীমান্ত-সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সব ইস্যু সমাধানের ভিত্তি সিমলা চুক্তি ও লাহোর ঘোষণাতেই আছে।
এদিকে কাশ্মীর নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এটি একান্তই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার বিষয়। তাদের আলোচনাকে সব সময়ই স্বাগত জানাবে যুক্তরাষ্ট্র। আর এর জন্য তারা প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতেই প্রস্তুত।
গত শনিবার তিন দিনের সরকারি সফরে ওয়াশিংটন পৌঁছান ইমরান খান। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নই এ সফরের প্রধান লক্ষ্য। এর আগে গত বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন নিয়ে মিথ্যা বলার অভিযোগ করে দেশটিতে সাহায্য কমিয়েছিলেন ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় ইমরান খানও বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। তবে এবার ট্রাম্প পাকিস্তান সরকারের প্রশংসা করার পাশাপাশি ইমরান খানের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন।
বৈঠকে আফগানিস্তান যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তান আফগানিস্তানে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারে সাহায্য করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চাইলে ১০ দিনেই আফগানিস্তান যুদ্ধে জিতে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে লাখ লাখ মানুষ হত্যা করতে চান না তিনি। আফগান শান্তিপ্রক্রিয়ায় অগ্রগতি সাধনের জন্য এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে চরমপন্থিদের বিরুদ্ধে দমন অভিযান চালানোর জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন তিনি।
ইমরান খান বলেন, আফগানিস্তানে কোনো সামরিক সমাধান নেই। যদি সামরিক বাহিনী নিয়ে যাওয়া হয়, লাখ লাখ মানুষ মারা পড়বে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..