প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কাস্টমসের জব্দ করা ড্রোন চায় র‌্যাব

মাসুম বিল্লাহ: বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা ও নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম সুষ্ঠু এবং জোরালোভাবে পরিচালনা করতে বিভিন্ন সময় কাস্টমস থেকে জব্দ করা ড্রোন ও ইউরোকপ্টার ব্যবহার করতে চায় র‌্যাব। সম্প্রতি র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের সই করা একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বরাবর।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, র‌্যাব বাংলাদেশ পুলিশের একটি স্বতন্ত্র এলিট ফোর্স। এ বাহিনী সমগ্র দেশে জঙ্গিবাদ দমন, অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান যেমন: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন, বিশ্ব ইজতেমাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব যথা ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, মহররম-আশুরা, দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা ইত্যাদি ও দেশের সব আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী দমন অভিযানে এবং দেশের জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোর নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আকাশ থেকে ঘটনাস্থল/অনুষ্ঠানস্থলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করার প্রয়োজন হয়। র‌্যাব ফোর্সেসের কাছে আকাশ থেকে ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করার মতো আধুনিক প্রযুক্তির কোনো সরঞ্জামাদি না থাকায় ওই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা খুবই দুরূহ হয়ে পড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কাস্টমস কর্তৃক বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবৈধভাবে আমদানি করা ড্রোন/ইউরোকপ্টার জব্দ করা হচ্ছে। এসব ড্রোন/ইউরোকপ্টার র‌্যাব ফোর্সেসকে দেওয়া হলে র‌্যাব বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযান এবং জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোয় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। এ প্রেক্ষিতে আপনাদের কর্তৃক জব্দ করা ১০টি ড্রোন/ইউরোকপ্টার ব্যবহারের জন্য র‌্যাবের কাছে জিম্মা/বরাদ্দ/হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। উল্লেখ্য, উক্ত ড্রোন/ইউরোকপ্টারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যে কোনো সময় তা আপনাদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে। কাস্টমস কমিশনারকেও চিঠির একটি অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান শেয়ার বিজকে বলেন, আটক করা ড্রোনের বিষয়ে মামলা হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতের রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে শুল্ক গোয়েন্দারা হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শারজা থেকে আসা এক যাত্রীর ব্যাগ থেকে আমদানিনিষিদ্ধ একটি অত্যাধুনিক ড্রোন (চালকবিহীন বিমান) জব্দ করে। ড্রোনটি ডিজেআই ফ্যানটম৪ মডেলের। এতে উন্নতমানের ক্যামেরা ও সেন্সর লাগানে আছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ড্রোনটি শুটিংয়ের পাশাপাশি গোয়েন্দাগিরির কাজে ব্যবহার করা যায়।

ড্রোন নানা ধরনের নাশকতার কাজে ব্যবহার হতে পারে এ আশঙ্কায় কয়েক মাস আগে বাংলাদেশে এর আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। সরকারের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া ড্রোন আমদানি করা যায় না এবং এটি উড্ডয়নের আগে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়।

শুল্ক গোয়েন্দারা এর আগে ২৭ জুলাই আরেকটি ড্রোন আটক করেছিল। ড্রোনটি আটকের ঘটনায় শুল্ক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটি বিমানবন্দর কাস্টমসে জমা দেওয়া হবে।