আজকের পত্রিকা দিনের খবর প্রথম পাতা সর্বশেষ সংবাদ সারা বাংলা

কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনার ‘নমুনা পরীক্ষা’ হচ্ছে

রহমত রহমান: করোনা মহামারির মধ্যেও থেমে নেই কাস্টমস হাউস। দিনরাত চলছে আমদানি-রপ্তানি। করোনার সরাঞ্জাম, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষধের কাঁচামালসহ সব খালাস হচ্ছে। করোনার ঝুঁকি নিয়েই কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারী পণ্য শুল্কায়ন ও খালাসের কাজ করছেন। সুরক্ষা সামগ্রীর অপ্রতুলতায় আক্রান্ত হতে শুরু করেছে করোনায় সম্মুখ সারির এ রাজস্ব যোদ্ধারা। অসুস্থ হলেও নমুনা পরীক্ষায় অনেকটাই পিছিয়ে কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

## নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট) অ্যাসোসিয়েশন

## প্রথমবার আইসিডি কমলাপুরে ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে

## দ্বিতীয়বার শুক্রবার ঢাকা কাস্টম হাউসে নেওয়া হয়েছে ১৫ জনের নমুনা

## রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে এখন পর্যন্ত ৮ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন

এ যোদ্ধাদের আগাম প্রতিরোধের ব্যবস্থা হিসেবে নমুনা পরীক্ষায় এগিয়ে এলেন বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট) অ্যাসোসিয়েশন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মোবাইল টিমের সহায়তায় এ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে কাস্টমস হাউসে করোনা হচ্ছে নমুনা পরীক্ষা। অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও ঢাকা কাস্টমস বন্ড কমিশনার এসএম হুমায়ুন কবীর এর প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

আরো পড়ুন-দুই রাজস্ব-চার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত

প্রথমবার আইসিডি কমলাপুর কাস্টম হাউসে ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) দ্বিতীয় দফায় ঢাকা কাস্টম হাউসের ১৫ জনের নমুনা নেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের সময়োপযোগী এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে ঈদের পরও অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এমন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ডেপুটি কমিশনার মারুফ খান শেয়ার বিজকে বলেন, আজ ঢাকা কাস্টম হাউসে ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে আমাদের স্টেকহোল্ডার ও হাউসের কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। যাদের বিভিন্ন সময় সর্দি, জ্বরসহ করোনার উপসর্গ ছিল, তাদের তালিকা করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ও কমিশনার এসএম হুমায়ূন কবীর স্যারের সমন্বয়ে মূলত এমন একটি ভালো কাজ হচ্ছে। এমন উদ্যোগ নেওয়াতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আমরা ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাতদিন এমন কি ছুটির দিনেও করোনা ঝুঁকির মধ্যে করোনার পণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ সব পণ্য খালাসে কাজ করছি। ফলে ঝুঁকির মাত্রাও বেশি।

এ বিষয়ে কমিশনার এসএম হুমায়ুন কবীর শেয়ার বিজকে বলেন, অনেক কাস্টমস কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আসলে নমুনা পরীক্ষা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। আমরা প্রথমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহায়তায় আইসিডিতে কাস্টমস কর্মকর্তা, সিএন্ডএফ এজেন্টসহ ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠিয়েছি। দ্বিতীয়বার ঢাকা কাস্টম হাউসে ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ঈদের পর অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ ধরনের কার্যক্রম আরো নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন। সেজন্য দ্রুত তাদের নমুনা পরীক্ষা করা দরকার। আগাম নমুনা পরীক্ষার মতো প্রতিরোধক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আক্রান্তের হার অনেক বেড়ে যাবে। আক্রান্ত কর্মকর্তাকে সনাক্ত করতে পারলে অন্যরা আক্রান্ত হবেন না। সবাই সাবধান হয়ে যাবেন।

এনবিআর সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে এখন পর্যন্ত ৮ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দুইজন রাজস্ব কর্মকর্তা ও ছয়জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা। যার মধ্যে রয়েছে-চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে ৫ জন। এরা হলেন-রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন মজুমদার ও আমজাদ হোসেন, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. দারাশিকো, সুজন কুমার সরকার, ফারুক আব্দুল্লাহ। আইসিডি কমলাপুরের একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হলেন নুরে আলম। ভ্যাট পশ্চিম কমিশনারেটের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম। ভ্যাট উত্তর কমিশনারেটের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন।

অপরদিকে, শুক্রবার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ফারুক আব্দুল্লাহ কে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জ্বরের সাথে তীব্র শ্বাসকষ্ট হওয়ায় তাকে ভর্তি করা হয়। এর আগে অসুস্থ হলে ১৬ মে সে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করায়। পরে তার পজেটিভ আসে। এ কর্মকর্তা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্বরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। আজ অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তায় তাকে ভর্তি করানো হয়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের করোনায় আক্রান্ত রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন মজুমদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকার আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অ্যাজমা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিক রয়েছে। তার তিনটি রোগের কারণে তিনি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কর্মকর্তারা জানান, এ রাজস্ব কর্মকর্তা সাতদিন জ্বর নিয়ে অফিস করেছেন। করোনা উপসর্গ থাকার পরও তিনি পরীক্ষা করাননি এবং কোন প্রকার সর্তকর্তা অবলম্বন করেননি। এছাড়া অসুস্থতার বিষয়টি তিনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এড়িয়ে গেছেন। ফলে তার সংস্পর্শে আসা অনেকেই আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দুইজন রাজস্ব কর্মকর্তা ও চারজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কমিশনার মো. ফখরুল আলম শেয়ার বিজকে জানিয়েছেন, অসুস্থ হওয়ার পর এ রাজস্ব কর্মকর্তাকে প্রথমে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা পজেটিভ আসে। ইউনাইটেডে করোনা চিকিৎসা করা হয় না। পরে তাকে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা ক্রিটিক্যাল হওয়ায় বৃহস্পতিবার তাকে আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

####

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..