কিছু ঘটলেই বিএনপিকে জড়ানোর চেষ্টা: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে যে কোনো ঘটনা ঘটলেই সরকারের মন্ত্রীরা বিএনপিকে জড়ানোর চেষ্টা করেন অথচ কাজগুলো তারাই করে থাকেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য হাজার বছরের ঐতিহ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে সরকারের মদদ রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণবিরোধী নীতির কারণে সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতায় দেশে নৈরাজ্য ভয়ালরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের মানুষ এখন জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে ভীতি ও শঙ্কার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। ঠিক এই মুহূর্তে সরকার নানা বায়োস্কোপ প্রদর্শন করে তাদের অমানবিকতার বলি করছে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে।

তিনি বলেন, বুধবার সকালে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপের ঘটনায় উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনাসহ দেশব্যাপী রক্তাক্ত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। কুমিল্লা পূজামণ্ডপের ঘটনার জের ধরে ওইদিন রাতে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সহিংস সংঘাতে চারজন নিহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী হাজীগঞ্জে পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ, যুবলীগও বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে। এ ছাড়া দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগ মির্জা ফখরুল বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরঞ্জিত শক্তি প্রয়োগের কারণে জীবনহানি ও গুরুতর আহতসহ দেশের বিভিন্ন জনপদ রক্তরঞ্জিত হচ্ছে। কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননা কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলাধীন বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হামলা-ভাঙচুরসহ ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় যতন সাহা নামে একজন ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন একটি প্রশ্ন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে, কে বা কারা পবিত্র কোরআন শরিফ পূজামণ্ডপে নিয়ে গেছে? সরকারের নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাসের পর কেবল ক্ষমতা-সংশ্লিষ্ট দুষ্ট চক্র ছাড়া দেশের জনগোষ্ঠীর কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ই এ কদর্য কাজ করবে না বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আমি এ ঘটনা জানার পরপরই একটি বিবৃতিতে বলেছিলাম, সরকারের মদদেই কুমিল্লার নানুয়ার দীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে চক্রান্তমূলক কুৎসিত কাজটি করা হয়েছে। এর বড় প্রমাণ ঘটনার পরপরই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ অতিসত্বর পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করেছিল। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এই অনুরোধে সাড়া না দিয়ে পুলিশ পাঠিয়েছে অনেক পর। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের নীতি আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক, ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমানকে জড়িয়ে কল্পিত ‘স্টোরি’ রচনা করা হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমান উল্লাহ আমান ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ডের বিএনপির একজন নেতার সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে বলে একটি অডিও কল ভাইরাল করা হয়েছে। সরকার এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছে। কণ্ঠ কাটপিস করে সুপার এডিটিংয়ের মাধ্যমে বানোয়াট ফোনালাপ ইতোমধ্যে অসংখ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ভাইরাল করা হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের মদদে একটি অসাধু মহল প্রতিনিয়ত এই হীন কাজগুলো সর্বক্ষণ করে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেনÑবিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাক্ষা চন্দ্র দাস প্রমুখ।


সর্বশেষ..