প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কিছু প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি আজও

আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ বছর পূর্তি হলো গতকাল। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর সংঘটিত ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল ও দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছিলেন। শিল্পকারখানার অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে এত বিপুল ক্ষয়ক্ষতি থেকে বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরাও অনেক কষ্ট বয়ে চলেছেন।

যারা মারা গেছেন, তাদের আর ফিরিয়ে আনা যাবে না, কিন্তু প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ কী পেল নিহত শ্রমিকের পরিবারগুলো? আহতরা কি পেয়েছেন যথাযথ চিকিৎসা? এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে রাষ্ট্র ও ব্যবসায়ীদের নেওয়া পদক্ষেপ কি পর্যাপ্ত? এগুলোর উত্তর খোঁজা জরুরি এখন।

তাজরীনের পর রানা প্লাজা ধসের ঘটনাও ঘটে। তাতে বহির্বিশ্বে আমাদের পোশাক কারখানার পরিবেশ নিয়ে কথা ওঠে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ব্যবসায় আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোর প্রচারণা। এ অবস্থায় ক্রেতারা বিভিন্ন শর্ত দেওয়ার পরও আমাদের গার্মেন্ট খাতে তীব্র বিরূপ প্রভাব পড়েনি। এর বড় কারণ নতুন শিল্পমালিকরা এ বিষয়ে সচেতন ছিলেন এবং শর্ত পালনে আন্তরিক ও মানের প্রশ্নে যত্নবান ছিলেন। পুরোনো উদ্যোক্তারাও অনেকে নতুন পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন বলতে হবে।

তাজরীন ফ্যাশনস দুর্ঘটনার তদন্তে কারখানা মালিকের অবহেলার প্রমাণ মিলেছে। ইমারত নির্মাণবিধি অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করা হয়নি। এতে জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না। অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্রমিকরা নিচে নেমে আসতে পারেননি। অগ্নিঘণ্টা বাজার পরও কয়েকটি ফ্লোর থেকে তাদের নিচে নামতে দেওয়া হয়নি। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। এ ধরনের মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনা রোধে নেওয়া ব্যবস্থা মনিটর করতে পারে পোশাক মালিক সংগঠনগুলো।

তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে হতাহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, পঙ্গু শ্রমিকদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে সহায়তা এবং হতাহত শ্রমিক পরিবারের কর্মক্ষম সদস্যদের কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেসব কতটা রক্ষা হয়েছে, তা নিজেদের উদ্যোগে সমাধান করতে হবে পোশাক মালিকদের। সদস্যভুক্তির যোগ্যতা হিসেবে কারখানার নিরাপদ অবকাঠামো ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে শর্ত আরোপ করতে পারে সংগঠনগুলো।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্পের অবদান বিরাট। বর্তমানে রফতানি খাতে এর অবদান প্রায় ৮০ শতাংশ। দেশের অদক্ষ ও কম শিক্ষিত নারীর এক বিরাট অংশ কাজ করছে এ শিল্পে। তারাই এখানে কর্মশক্তির সিংহভাগ। নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়বে। যথাযথ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শুধু তাদের কর্মক্ষমতা বাড়বে না, কারখানা মালিকেরও অবস্থার উন্নতি হবে; বাড়বে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।

নারী শ্রমিকদের সব রকম বৈষম্য থেকে রক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকা দরকার। আইএলও কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কনভেনশনের আলোকে তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রণীত আইনগুলোও বাস্তবায়ন করতে হবে।