Print Date & Time : 17 April 2021 Saturday 1:47 am

কিছু শেয়ারদর আকাশছোঁয়া জমিনে ৩৫ কোম্পানি

প্রকাশ: January 19, 2021 সময়- 11:13 pm

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ ও সাইফুল্লাহ আমান” দীর্ঘদিন পুঁজিবাজার স্থিতিশীল থাকায় অস্বাভাবিকহারে দর বেড়েছে কিছু শেয়ারের। এসব শেয়ারের দর বাড়তে দেখা গেছে কোনো ধরনের কারণ ছাড়াই। তিন মাসের ব্যবধানে চার গুণেরও বেশি দর বেড়েছে কিছু শেয়ারের। এখনও এর বেশিরভাগ শেয়ারদরই লাগামহীনভাবে বাড়ছে। ফলে এসব শেয়ারের কৃত্রিমভাবে দর বাড়ানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। পক্ষান্তরে কিছু শেয়ার দীর্ঘদিন থেকে ফ্লোর প্রাইসে পড়ে রয়েছে, এটাকেও অস্বাভাবিক মনে করছেন তারা।

গত তিন মাসের বাজারচিত্রে দেখা যায়, এই সময়ে বিমা খাতের কিছু কোম্পানিসহ আরও বেশ কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, রবি আজিয়াটা, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, বিডি ফাইন্যান্সসহ আরও কিছু কোম্পানি। এর মধ্যে নতুন কোম্পানি রবির শেয়ারদর গতকাল পর্যন্ত বেড়েছে ৪৭৪ শতাংশ। বর্তমানে এই কোম্পানির শেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৫৭ টাকা ৪০ পয়সায়। টানা তিন দিন দর হ্রাসের ফলে শেয়ারের বর্তমান দর এখানে স্থির হয়েছে। তবে এ শেয়ারের দাম ৭৭ টাকা ১০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল।

এই সময়ে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বেড়েছে ১১৫ শতাংশ। তিন মাসের মধ্যে শেয়ারদর ১৫ টাকা বেড়ে ৪৮ টাকা ২০ পয়সায় চলে এসেছে। এছাড়া একই সময়ে লংকাবাংলার শেয়ারদর বেড়েছে ৯৮ শতাংশ। ২২ টাকা থেকে তিন মাসের ব্যবধানে দর চলেছে ৪৩ টাকা ৫০ পয়সায়। তালিকায় থাকা ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বেড়েছে ২৫৪ শতাংশ। এছাড়া বাংলাদেশে ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের ৯১ শতাংশ, বিডি ফাইন্যান্সের ৩৭ শতাংশ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর ২৯ শতাংশ, ম্যাকসন স্পিনিংয়ের ৭৪ শতাংশ, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলের ৭৯ শতাংশ, জিবিবি পাওয়ারের ৬৯ শতাংশ এবং লাফার্জহোলসিমের শেয়ারদর দর ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে বাজারে তালিকাভুক্ত আরও কিছু কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বাড়তে দেখা যায়।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অকারণে যেসব শেয়ারদর বাড়ছে, এসব শেয়ারদর কৃত্রিমভাবে বাড়ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। অন্যদিকে যেসব শেয়ারদর দীর্ঘদিন থেকে ফ্লোরপ্রাইসে পড়ে রয়েছে, সে বিষয়টিতেও নজরদারি বাড়ানো দরকার।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন পরিচালক বলেন, ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজারে সব সময় কোনো না কোনো কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কারসাজির ঘটনা ঘটে। বেশিরভাগ সময়ই এতে কোম্পানির লোক জড়িত থাকে। তাই এখন যেসব কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ছে, তাদের নজরদারিতে রাখা দরকার। তা না হলে বিনিয়োগকারীদের একসময় এর মাশুল দিতে হতে পারে।

এদিকে ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে এখনও ফ্লোর প্রাইসে অবস্থান করছে ৩৫টি কোম্পানি। কোম্পানিগুলো হলো রহিমা ফুড ১৭৫ টাকা ৪০ পয়সা, ন্যাশনাল পলিমার ৫৬ টাকা ৬০ পয়সা, ভিএফএস ডাইং লিমিটেড ২২ টাকা ৫০ পয়সা, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড ৩৯ টাকা ৫০ পয়সা, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৩০৭ টাকা ৯০ পয়সা ও সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেড ২৪ টাকা ৫০ পয়সায় অবস্থান করছে।

এছাড়া ফ্লোর প্রাইসে আছে সোনালী পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সুহƒদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড, শমরিতা হসপিটাল লিমিটেড, সমতা লেদার কমপ্লেক্স লিমিটেড, সায়হাম টেক্সটাইল লিমিটেড, সায়হাম কটন মিলস লিমিটেড, জেমিনি সি ফুড লিমিটেড, কে অ্যান্ড কিউ বাংলাদেশ লিমিটেড, কোহিনুর কেমিক্যাল, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার লিমিটেড, এমএল ডাইং লিমিটেড, মুন্নু সিরামিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ওইমেক্স ইলেক্ট্রড লিমিটেড, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, প্রগ্রেস লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, রহিম টেক্সটাইল, ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফিন্যান্স লিমিটেড, অ্যাপেক্স স্পিনিং লিমিটেড, অ্যাপেক্স ট্যানারি লিমিটেড, বাংলাদেশ অটোকারস লিমিটেড, বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেড, জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড ও সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেড।

জানতে চাইলে মডার্ন সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুজিস্তা নূর-ই-নাহারিন শেয়ার বিজেকে বলেন, বাজার ভালো থাকায় অনেক কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকহারে বাড়ছে। এসব কোম্পানি নিয়ে আলোচনা হলেও যেসব কোম্পানির শেয়ারদর ফ্লোর প্রাইসে পড়ে রয়েছে, এটা নিয়ে কেউ কথা বলছে না। অনেক ভালো মানের কোম্পানির শেয়ারদরও ফ্লোর প্রাইসে পড়ে রয়েছে। দর বাড়লে যেমন ওই কোম্পানির কাছে তার কারণ জানতে চাওয়া হয়, তেমনি যেসব কোম্পানির শেয়ারদর ফ্লোর প্রাইসে রয়েছে, সেসব কোম্পানির কাছেও এর কারণ জানতে চাওয়া উচিত।