সারা বাংলা

কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পর নবজাতককে অস্বীকার

প্রতিনিধি, নোয়াখালী: নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সাতাশদ্রোণ এলাকায় এক তরুণীকে (১৪) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বারবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করার পর গর্ভজাত মেয়েকে অস্বীকার করছে বাবা মো. ইব্রাহীম। এ ঘটনায় জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছে ওই ভুক্তভোগী ও অশিক্ষিত কিশোরী। আদালত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চরজব্বর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত বছরের ১ নভেম্বর ওই কিশোরীর মা-বাবা বাড়িতে না থাকার সুযোগে ওই ইব্রাহীম তাকে তার ঘরে একা পেয়ে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এ সময় কিশোরী বাধা দিয়ে চিৎকার করার চেষ্টা করলে ইব্রাহীম বিয়ে করবে বলে আল্লাহর নামে শপথ নেয়।

ভুক্তভোগী ও তার বাবা দিনমজুর বেলায়েত হোসেন জানান, সহজ-সরল ও দরিদ্র কিশোরী ইব্রাহীমের কথায় বিশ্বাস করে ঘটনাটি আর কাউকে জানায়নি। পরে ওই কিশোরীর সঙ্গে সুযোগ বুঝে আরও একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে আসামি। এরপর ওই কিশোরী অসুস্থতা ও ভারসাম্যহীনতা বোধ করলে ঘটনাটি তার মা-বাবাকে জানায়।

এরপর ওই কিশোরীর বাবা আমান উল্লাহ ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনকে ঘটনাটি জানালে তিনি এ ঘটনার ন্যায়, যথাযথ ও সঠিক বিচারের আশ্বাস প্রদান করেন। পরে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বেশ কয়েকবার বসার পরও এর সমাধান হয়নি। একপর্যায়ে তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য পুলিশকে জানান। পরে ওই কিশোরীর পরিবার আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট নিয়ে থানায় গেলে থানার সাবেক ওসি মো. সাহেদ উদ্দিন ঘটনাটি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নিষ্পত্তি করার জন্য অনুরোধ করেন। এরপর চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ওই কিশোরীকে ডেকে একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়াসহ গর্ভজাতকে নষ্ট করার পরামর্শ প্রদান করেন এবং বিবাদীরা ওই কিশোরীকে কোনোভাবেই স্ত্রী হিসেবে মেনে নেবে না বলে জানিয়ে দেয়। এরই মধ্যে ওই কিশোরী একটি কন্যাসন্তান প্রসব করে বলে জানা গেছে।

জরজব্বর থানার ওসি জিয়াউল হক এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি থানায় সদ্য যোগদান করেছি। এ বিষয়ে এখনও কিছু জানি না। মামলার কপি হাতে পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..