মত-বিশ্লেষণ

কিশোর গ্যাং বন্ধে পরিবারকে সচেতন হতে হবে

সিনথিয়া সুমি: দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে উঠতি কিশোর গ্যাং। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্কুল-কলেজ ও ভার্সিটিপড়ুয়া কিশোরদের মধ্যকার সিনিয়র-জুনিয়রদের দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতা, মাদক, নারী নির্যাতন এমনকি খুন-খারাবির প্রবণতা। এছাড়া টিকটক লাইকিসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে অপরাধ করছে তারা। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে উত্তরায় ডিসকো বয়েজ ও নাইন স্টার গ্রুপের অন্তর্দ্বন্দ্বে খুন হয় ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবির। আদনান হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই আলোচনায় আসে কিশোর গ্যাং। অন্যদিকে রাজধানীসহ জেলা শহরগুলোতেও বেরিয়ে আসে কিশোরদের ‘গ্যাং’ এবং তাদের সংঘবদ্ধ অপরাধের ভয়ংকর সব চিত্র। এসব গ্যাং সমাজে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে উদ্বেগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিভিন্ন জেলা শহরের কিশোররাও জড়িয়ে পড়ছে পাড়া বা মহল্লাভিত্তিক নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোরদের মধ্য অ্যাডভেঞ্চার ফিলিং বা হিরোইজম ভাব বেশি দেখা যায়। কিশোর বয়সে বেড়ে ওঠার পরিবেশ তাকে অপরাধী হয়ে উঠতে সহায়তা করে। কিশোর বয়সে ইতিবাচক চর্চার দিকে না গিয়ে, নেতিবাচক চর্চার দিকে চলে যায়। আবার যখন তারা দেখে, অপরাধ যারা করছে তারা সমাজে বেশি লাভবান হচ্ছে, সেটা কিশোররা অনুসরণ করে। তাদের ওপর পারিবারিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ থাকে না। লক্ষণীয় বিষয়, আমাদের সমাজে নানা অসঙ্গতি রয়েছে। নিজেদের সাংস্কৃতিক থেকে দূরে সরে যাচ্ছে ও সময়ের অনেক কিশোর, তাদের আচরণ পরিবর্তন হচ্ছে। অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন লোমহর্ষক ও ভিনদেশি সংস্কৃতি ইচ্ছামতো তাদের আয়ত্তে চলে যাওয়ায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এছাড়া কিশোরদের রাজনৈতিক ব্যবহার করার কারণে তাদের মধ্য গ্যাং কালচার গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

কিশোরদের গ্যাং কালচার এবং কিশোর অপরাধ বর্তমান সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এ সমস্যা নিরসনে দরকার সর্বসম্মতিক্রমে সামাজিক আন্দোলন। এক্ষেত্রে পরিবারকে সচেতন থাকতে হবে বেশি। কারণ তাদের ছেলেমেয়ে কার সঙ্গে মিশছে, কীভাবে বড় হচ্ছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। কেননা পরিবার মানুষের আদি সংগঠন এবং সমাজজীবনের মূলভিত্তি। পরিবারের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে কিশোরদের গড়ে তুলতে সচেষ্ট হতে হবে।

কিশোরদের সমাজের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত রাখতে হবে। তাই এর জন্য সমাজ ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রাখা চাই। আগামী প্রজšে§র কিশোরদের সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশ এবং কলুষমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনে এখন থেকেই এই বিষয়ে সবাইকে বিশেষ করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তৎপর এবং যথেষ্ট সজাগ থাকতে হবে। তাহলেই গ্যাং কালচারের এই বিপথগামী তরুণদের অপরাধমুক্ত রাখা সম্ভবপর হবে এবং আগামী প্রজš§ রক্ষা পাবে এক অসুস্থ সমাজ থেকে। জীবনের অতি মূল্যবান অংশের নাম তারুণ্য। স্বপ্ন ও সম্ভাবনার, উদ্যম ও গঠনের এ এক সতেজ অধ্যায়। আর তাই সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে তরুণ-সমাজ। এরাই তো নতুন সূর্য-সমাজের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার। এই সূর্য ক্ষয় ও অবক্ষয়ের কালো মেঘে ঢাকা পড়ে যাওয়ার মানে, সমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়া। কাজেই আমাদের কিশোর-তরুণদের অবক্ষয়ের রাহুগ্রাসে পতিত হওয়া থেকে অবশ্যই ফিরিয়ে আনতে হবে।

শিক্ষার্থী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান

ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..