দিনের খবর পত্রিকা শেষ পাতা

কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায়-তা পর্যালোচনা করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেয়ার দাবির পরিলক্ষিত হচ্ছে দেশব্যাপী। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে থেকে কীভাবে খোলা যায়Ñসে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকের পর সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি নাÑজানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে, এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকে নিয়ে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্তে আসতে বলা হয়েছে। তারা প্রিভিউ করবে আমরা (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) খুলব কিনা এবং কখন খুলব।’

‘কুইকলি খোলা যায় কি না, কী পদ্ধতিতে খুলব যাতে সেইফটিও ঠিক থাকে, একই সঙ্গে লেখাপড়াও হয়। কারণ এতদিন হয়ে গেছে। অন্যান্য দেশে ভার্চুয়ালি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলাই আছে। সেসব দৃষ্টিকোণ থেকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, ‘আপনারা বসে চিন্তা-ভাবনা করেন আমরা খুলে দিতে পারি কিনা’।”

দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর গত বছর ১৭ মার্চ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিছুদিন পর টিভিতে ও অলাইনে ক্লাস শুরু হলেও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি। স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরের ক্লাসে উঠেছেন পরীক্ষা ছাড়াই। আর অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসি ও সমমানের ফলফলের ভিত্তিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়েছে।

কবে নাগাদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘না, কোনো তারিখের কথা বলা হয়নি। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে গ্রামগঞ্জে দেখা গেছে ছেলেমেয়েরা একটু ফ্রিলি মুভ করছে। প্রধানমন্ত্রী যেটা বলেছেন, শিক্ষক ও কর্মচারীদের ভ্যাকসিনটা আগে কনফার্ম করতে হবে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তালা ভেঙে শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ বা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে হল খোলার আন্দোলন নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছি কি নাÑতা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।
উত্তরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটা আলোচনা হয়নি, তবে এটা আলোচনা হয়েছে যে, বিশেষ করে যারা আবাসিক শিক্ষার্থী, তাদের সেইফটিটাই হলো সবচেয়ে বড় বিষয়। তাদের জন্য সেইফটি মেজার্স নিয়ে কীভাবে স্কুল কলেজ খোলা যায়, সেটা দেখার জন্য বলা হয়েছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এই সপ্তাহে না হলে আমরা আগামী রবি-সোমবারের মধ্যে ইনশাআল্লাহ বসে যাব। বসে বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনের সবাইকে নিয়ে বসে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারব।’

গত ২৪ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি সংসদে বলেছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর প্রাথমিকভাবে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস হবে। বাকিরা সপ্তাহে এক দিন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস করবে। কিন্তু সর্বশেষ ২৪ ফেব্রæয়ারি এক আদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ২৮ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানানো হয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..