প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কী আছে ওই পাসওয়ার্ডে?

‘ওইসব দেশের মানুষের বিষয়ে তদন্ত করা বেশ কঠিন। তারা আমেরিকায় আসতে চাইলে আমরা জানতে চাইবো, তারা কোন সামাজিক মাধ্যম

ব্যবহার করে। সে মাধ্যমের পাসওয়ার্ড চাইবো। ইন্টারনেটে তার কর্মকাণ্ড আমরা দেখতে চাই।’ এ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জন কেলির কথা।

মার্কিন ভিসা আবেদনকারীর ব্যাকগ্রাউন্ড দেখতে ভবিষ্যতে তাদের ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমের পাসওয়ার্ড চাইতে পারে মার্কিন দূতাবাস। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারী সহযোগিতা করতে না চাইলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। মূলত ভ্রমণকারীদের মধ্যে কে বা কারা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ, তাদের খুঁজে বের করতে এমন পদক্ষেপ নিতে পারে দেশটি।

সামাজিক মাধ্যম কেবল স্ট্যাটাস দেওয়া আর ছবি আপলোডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এ যোগাযোগ মাধ্যম একজন মানুষের পরিচয় বহন করে। মানুষে মানুষে দূরত্ব কমিয়েছে এ মাধ্যম। বদলে দিয়েছে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। ফলে আমাদের চিন্তার পরিসর বেড়ে গেছে। একেকটি যোগাযোগ মাধ্যম যেন একেকটি সার্চ ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে। হাতের মুঠোয় পাওয়া যায় সব ধরনের খবর। জনমত গঠনেও এক দুর্বার শক্তি হয়ে উঠেছে এ মাধ্যম। সুবিধার পাশাপাশি অনেক অসুবিধাও রয়েছে এখানে।

তবে চাওয়ামাত্র কেন পাসওয়ার্ড দেবে ব্যবহারকারী? পাসওয়ার্ডকে ডিজিটাল চাবি বলা যেতে পারে। এটি বেহাত হলে আপনার নাম ভাঙিয়ে যে কেউ নানা স্ট্যাটাস দিতে পারে। অশ্লীল ছবি, মন্তব্য পোস্ট করতে পারে। আপনার ইনবক্স থেকে গোপন মেসেজ নিয়ে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে। আপনার নাম ব্যবহার করে নানা ওয়েবসাইটে মন্তব্য করতে পারে। প্রয়োজনীয় তথ্য মুছে ফেলতে পারে। আপনার পেজের মাধ্যমে তার শত্রুকে ঘায়েল করতে পারে।

এগুলো আসলে অল্প কয়েকটি উদাহরণ। পাসওয়ার্ড অন্যের হাতে পড়লে আপনার জীবনের গতিপথও বদলে যেতে পারে। অর্থাৎ পাসওয়ার্ড বেহাত হলে বিপত্তি ঘটবেই।

এ কারণে অনেক দেশের প্রযুক্তিবিদ ও সমাজ উন্নয়নকর্মী পাসওয়ার্ড চাওয়ার পরিবর্তে অন্য শর্ত আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, পাসওয়ার্ড দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে তারা আর্জি জানিয়েছেন, অপরকেও পাসওয়ার্ড না দিতে উৎসাহিত করুন।