সারা বাংলা

কুকুর-বিড়ালের অবাধ বিচরণে আতঙ্কে রোগীরা

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

আবিদ হোসেন বুলবুল, গাজীপুর: গাজীপুর জেলা শহরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে কুকুর-বিড়ালের অবাধ বিচরণ, উপদ্রবসহ নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ওইসব কুকুর-বিড়ালের ভয়ে সবসময়ই আতঙ্কিত থাকেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, হরহামেশা এসব চোখে পড়লেও প্রতিকারের জন্য কেউ ব্যবস্থা নেয়নি, যেন দেখার কেউ নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলার টিকিট কাউন্টারের সামনে বেওয়ারিশ কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। রোগীদের কেউ কেউ ভয়ে কুকুর এড়িয়ে দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করছেন। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের পুরোনো ভবনের ভেতরে মহিলা ওয়ার্ডে যাওয়ার সময় আরও একটি কুকুরকে সিঁড়ি দিয়ে দ্বিতীয় তলায় উঠতে দেখা যায়।

সেখানে কিছু সময় ঘোরাঘুরি করার পর সেটি দোতলা থেকে নেমে আরএমও’র কক্ষের পেছেন শুয়ে পড়ে। কুকুরটির গলায় বড় একটি ক্ষতও রয়েছে, যা পচে গিয়ে সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। এছাড়া ক্ষতের চার পশে মাছি ভনভন করছিল। কুকুরটিকে দেখে রোগীরা আতঙ্কিত হয়ে নাক চেপে ধরে দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন।

হাসপাতালের স্টোর অফিসার মো. নাজিম উদ্দিন জানান, তারা ছুটিতে আছেন। তার কক্ষের পাশে সহকারী পরিচালকের কক্ষেও তালা ঝুলতে দেখা গেছে। পরে স্টোর অফিসার নাজিম উদ্দিনকে ওই ভবনের নিচতলায় অবস্থান করা কুকুর ও ময়লা দেখানো হলে তিনি এক নিরাপত্তাকর্মীকে ডেকে কিছুক্ষণ শাসিয়ে ওপরে তার কক্ষে চলে যান।

এরপর তিনতলায় প্রায় আধা ঘণ্টা অফিস প্রধান মো. নাজমুল হক ও স্টোর অফিসার নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পর নিচে নেমে আসার সময়ও ওইসব ময়লা ও কুকুরকে সেখানেই দেখা গেছে। এভাবে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য রোগী নানা অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অথচ হাসপাতালটিতে ঠিকাদারের মাধ্যমে ৯০ আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছেন ৩৮ জন। আর নিরাপত্তা প্রহরী ৯ জন। ঠিকাদার প্রতিটি কর্মীর মাসিক বেতন বাবদ ১৬ হাজার ৬২০ টাকা করে বিল তুলে নেন। এছাড়া ঠিকাদারকে বিলের ১০ পার্সেন্ট সার্ভিস চার্জ দেয় সরকার।

অভিযোগ উঠেছে, পর্যাপ্ত লোক নিয়োগ দেওয়া হলেও ঠিকাদার কম লোক দিয়ে কাজ করাচ্ছেন এবং কর্মীদের কাজের তদারকিও করেন না। অথচ মাস শেষে পুরো ৯০ জনের বিল তুলে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

তিনি বলেন, ‘কাউকে বিড়াল-কুকুর তাড়ানোর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। অথচ কুকুর ও বিড়াল অনেক রোগের জীবাণু বহন করে। কুকুর জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস বহন করে। তাছাড়া এসব কুকুর-বিড়াল হাসপাতালের উš§ুক্ত ডাস্টবিনে ডাস্টবিনে ঘোরে। সেখান থেকে জীবাণু নিয়ে বিছানায় উঠে বা খাবারে মুখ দিয়ে জীবাণু ছড়াতে পারে। হাসপাতালে যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকছে নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা। এমন সব অস্বাস্থ্যকর দৃশ্য হরহামেশা দেখা যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে ৩৬ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নিরাপত্তার দায়িত্বে ৪২ আনসার রয়েছেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকটে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করাতে হচ্ছে। ফলে এ ক্ষেত্রে কিছুটা ত্রুটি রয়েছে। তবে বেড়াল-কুকুর হাসপাতালের ভেতরে ঢোকার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মীদের গাফিলতি রয়েছে।’ এ জন্য আনসার কমান্ডারকে শোকজ করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..