বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশে পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব

ডিসিসিআইয়ের ওয়েবিনার

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশে পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। গতকাল ওয়েবিনারে এ আহ্বান জানান তারা। ‘শিল্পনীতির সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক ওই ওয়েবিনারের আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়নের অধ্যাপক আতিউর রহমান ও পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মাসুদুর রহমান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবু ইউসুফ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, অর্থনীতির শিল্প খাতের অধিকাংশ উদ্যোক্তাই কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, তাদের উন্নয়ন করা গেলেই দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বিনিয়োগ বাড়বে এবং সচল হবে দেশের অর্থনীতি।

মন্ত্রী জানান, প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে ২০ হাজার কোটি টাকা সিএমএসই খাতের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মঞ্জুরকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল সাত হাজার ৭০ কোটি টাকা, যা এ খাতে ঘোষিত মোট প্রণোদনার ৩৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ, যেখানে তৈরি পোশাক ছাড়া প্রায় সব শিল্প খাতে প্রণোদনা বণ্টনে ব্যাংকগুলো পিছিয়ে রয়েছে। সরকারের ঘোষিত নীতিগত ও আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে যেন কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক আতিউর রহমান বলেন, করোনো মহামারির কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অর্থনৈতিক গতিধারায় একটি মন্থর ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে একটি টেকসই ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে যথাযথভাবে এটির বাস্তবায়ন করা আবশ্যক।

তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী পণ্যের বহুমুখীকরণ ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিষয়টি এখন বেশ প্রকট হয়েছে এবং এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বিশেষ করে কৃষি খাত ও এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা অঞ্চল স্থাপন করার প্রস্তাব করেন।

ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ বলেন, দক্ষ মানবসম্পদের জন্য শিক্ষা ও শিল্প ব্যবস্থার সমন্বয় বাড়াতে হবে এবং শিল্প খাতের জন্য কী ধরনের দক্ষ মানবসম্পদের প্রয়োজন, তা নিরূপণ করে দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য দক্ষতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, গত তিন দশকে বাংলাদেশের শিল্প খাত প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও তা ছিল মূলত রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। তবে শিল্প খাতের বহুমুখীকরণে চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, জাহাজ নির্মাণ প্রভৃতি শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা আবশ্যক।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, প্রয়োজনীয় গবেষণা ও বিনিয়োগের অভাবে দেশের উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে বেশ সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি শিল্পনীতিতে দেশের ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প বিকাশের লক্ষ্যে আরও বেশি প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের লক্ষ্যে শুল্ক ও নীতি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান জানান, আমাদের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ, যেখানে প্রতিবেশী ভারতে এর পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ। তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এসএমই খাতের উন্নয়নে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..