প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কুড়িগ্রামে বন্যায় ভিটেমাটিহারা মানুষের চরম দুর্ভোগ

আমানুর রহমান খোকন, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে বন্যায় ভিটেমাটিহারা মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় প্রবল স্রোতে ভেসে যায় অনেক বাড়িঘর। বন্যায় ভিটেমাটিহারা মানুষদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দুধকুমোর নদীর পানি সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নে ঢুকে পড়ে। বন্যার পানির প্রবল স্রোতের মুখে বিলীন হয় গুণের ভিটার মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে ভ্যানচালক ইয়াকুব আলীর বাড়ি। বর্তমানে তিনি পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে কঠিন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই অবস্থা বিরাজ করছে এ ইউনিয়নের বাড়ি বিলীন হওয়া আরও ৭২টি পরিবারের।

এছাড়া পার্শ^বর্তী যাত্রাপুর ইউনিয়নে চলতি বন্যায় বাড়ি বিলীন হয়েছে ৬৫টি, ভোগডাঙ্গায় ২৬টি, হলোখানায় ৪৬টি ও মোগলবাসায় ২২টি। বন্যায় বাড়িঘর বিলীন হওয়া মানুষগুলো উঁচু রাস্তা, অন্যের বাড়ি ও ফাঁকা মাঠে আশ্রয় নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ঘোগাদহ ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মালেক বলেন, চলতি বন্যায় তার ইউনিয়নে ৭৩টি বাড়ি বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তিনি সরকারের কাছে ভিটেমাটিহারা ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য আবেদন জানান।

যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল গফুর জানান, তার ইউপি ভাঙনকবলিত হওয়ায় বন্যা এলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয় এবং ভাঙনের মুখে পড়ে। চলতি বন্যায় এখন পর্যন্ত ৬৫টি বাড়ি ভাঙনে বিলীন হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তিনি মানবেতর জীবনযাপনে থাকা ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

বানভাসিদের পশুর জন্য ১৮ লাখ টাকার গো-খাদ্য: এদিকে কুড়িগ্রামে বানের পানি কমায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরছেন বানভাসিরা। তবে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এখনও কাটেনি দুর্গত এলাকায়। বাসভাসিদের ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি প্রায় ১৮ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তার পানি বেড়ে ১৮ থেকে ২৫ জুন বন্যায় তলিয়ে যায় কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলা। আট দিনের বন্যায় ৪৯টি ইউনিয়নের ৩১৯টি গ্রামে বানের পানি ঢোকে।

তবে তিন দিন ধরে পানি কমতে শুরু করায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন বানভাসিরা। তবে এখনও বসবাস-উপযোগী হয়নি বাড়িঘর। পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে ঘরের আসবাবপত্র। দেখা দিয়েছে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট। প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে পানিবাহিত রোগের।

জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে তথ্য সংগ্রহ, নলকূপ পরিষ্কার করা ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, মেডিকেল দলগুলো কাজ করছে। বানভাসিদের চাহিদা পূরণের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া পাশাপাশি যে কৃষি বিভাগের ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণ করা হচ্ছে। আর প্রণোদনাও দেয়া হচ্ছে। বানভাসিদের জন্য ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি প্রায় ১৮ লাখ টাকার গো-খাদ্য বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।