দিনের খবর সারা বাংলা

কুড়িগ্রামে বন্যার পানি সরলেও শুরু হয়নি সড়ক মেরামত

আমানুর রহমান খোকন, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে দফায় দফায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্ট মেরামতে বিশেষ বরাদ্দ না থাকায় এখন পর্যন্ত শুরু করা হয়নি সংস্কার কাজ। বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে বন্যাকবলিত অনেক এলাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সংস্কারের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্টের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত কয়েক দফা বন্যায় জেলার ৯ উপজেলায় শুধু এলজিইডিরই ১৭৯ কিলোমিটার পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৮ কিলোমিটার পাকা সড়ক। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সড়কগুলো আরইএমপি প্রকল্পের আওতায় জেলায় কর্মরত ৫৯০ নারী শ্রমিকের মাধ্যমে সংস্কার করে সাধারণের চলাচলের উপযুক্ত করা হয়েছে। আর দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোতেও মেরামত কাজ শুরু হবে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এবার দেড় মাসের দীর্ঘ বন্যায় প্লাবিত হয়ে পড়ে কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলার ৫৬ ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা। এতে এলজিইডিসহ অন্য দপ্তরের ১৯১ কিলোমিটার পাকা সড়ক সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৩টি ব্রিজ, ১৮১টি কালভার্ট, এক হাজার ১৪৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ও ১৩৭ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

সরেজমিনে বন্যাদুর্গত কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা-পাকা সড়কগুলোয় দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়া সড়কের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় মানুষ বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন। গ্রামীণ এলাকার বেশিরভাগ সড়ক ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকায় চরম দুর্ভোগ নিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

রৌমারী উপজেলার হায়দার আলী বলেন, বন্যায় উপজেলার বেশিরভাগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এককথায় ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে উপজেলা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন। অনেক ইউনিয়নে পায়ে না হেঁটে চলাচলের উপায় নেই। কিন্তু বন্যা শেষ হওয়ার প্রায় তিন মাস হতে চললেও এখনও কাজ শুরু হয়নি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আবদুল আজিজ বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা করে অনেক আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এসব সড়ক মেরামতের জন্য বিশেষ কোনো বরাদ্দ না পাওয়ায় নিয়মিত সংস্কার কাজের আওতায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দরপত্রের কার্যক্রম সম্পন্ন হলে দ্রুত কাজ করা হবে।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে ২৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াও শেষের পথে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করার বিষয়ে মাসিক সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রত্যেকটি উপজেলা পরিষদের এডিবি বার্ষিক উন্নয়ন তহবিলে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছে। এটা দিয়েও গ্রামীণ অবকাঠানো উন্নয়নে কাজ করা হবে বলে তিনি জানান।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..