প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কুড়িগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা ৬ জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড

প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে জঙ্গি হামলায় নিহত হওয়ার ৬ বছর পর বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলায় ছয় জেএমবি সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মান্নান এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন পাবলিক প্রসিকিউটর এস এম আব্রাহাম লিংকন এবং আসামিপক্ষে লিগ্যাল এইড নিয়োজিত অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবীর।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেনÑরিয়াজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী, জাহাঙ্গীর ওরফে রাজীব গান্ধী, গোলাম রব্বানী, হাসান ফিরোজ ওরফে মোখলেছ, মাহাবুব হাসান মিলন ওরফে হাসান এবং আবু নাসের ওরফে রুবেল।

এদের মধ্যে রিয়াজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী পলাতক রয়েছেন। বাকি পাঁচ আসামির উপস্থিতিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। পলাতক রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর থেকে সাজা কার্যকরের আদেশ দেন আদালত।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলায় ১০ জেএমবি সদস্যকে আসামি করে মামলা হয়েছিল। চার্জশিট দাখিলের আগেই পুলিশের গুলিতে তিন আসামি এবং চার্জশিট দাখিলের পর আরও এক আসামি নিহত হয়। এ কারণে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাকি ছয়জনের বিরুদ্ধে এবং জাহাঙ্গীর ওরফে রাজীব গান্ধী, মো. রিয়াজুল ইসলাম ওরফে মেহেদী এবং গোলাম রব্বানী নামে তিন আসামির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২২ মার্চ সকাল ৭টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা শহরের গড়ের পাড় এলাকায় প্রাতঃভ্রমণে বের হয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী। এ সময় ওত পেতে থাকা জঙ্গিরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। পরে জঙ্গিরা ভীতিকর অবস্থা তৈরি করতে বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই দিনই নিহতের ছেলে রুহুল আমিন আজাদ বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানায় হত্যা মামলা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করেন। একই বছরের ৫ নভেম্বর মামলাগুলোর অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। এরপর ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর আদালতে মামলাগুলোর অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় মোট ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এস এম আব্রাহাম লিংকন বলেন, এ হত্যা মামলা প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ, পুলিশ ও প্রসিকিউসনের সমর্থন পেয়েছি। খুনি চক্র ধর্মের অপব্যাখ্যা করে বিভ্রান্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে এমন নৃশংস খুন করে রাষ্ট্র ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চেয়েছিল।