প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কুবিতে হল নির্মানে গাফিলতির অভিযোগ

নূরুল মোস্তফা,কুবি : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত শেখ হাসিনা হলের ১৮ মাসের কাজ হস্তান্তর করতে সময় লেগেছে ৬৫ মাস। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও প্রশাসনের উদাসীনতায় প্রকল্পের মেয়াদ বেড়েছে চারবার। এতে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৪০ লাখ টাকা। নিম্নমানের দরজার পরিবর্তন এবং আসবাবপত্র ছাড়াই রোববার (৩১ জুলাই) হল উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম. আবদুল মঈন। তবে হলটি হস্তান্তর হয়েছে গত জুন মাসের ২৯ তারিখ।

জানা যায়, ২০১৭ সালের মার্চ মাসে হলটির কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মো. আব্দুর রাজ্জাক (জেভিসিএ)। প্রকল্পের চুক্তি অনুসারে ১৮ মাস সময় বেঁধে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এসময় প্রকল্প ব্যয় ১২ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা ধরা হলেও তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১২ কোটি ৯৭ লক্ষ টাকা। তবে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে পারলে ব্যয় বৃদ্ধি পেত না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে দরজার পাল্লা ও চৌকাঠে নিম্নমানের কাঠ ব্যাবহার করা হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন থেকে মৌখিক ও লিখিতভাবে একাধিকবার ঠিকাদারকে সতর্ক করা হলেও নামেমাত্র পরিবর্তন করা হয়েছে। সমস্যা সমাধান না করেই গত রবিবার হলটির উদ্বোধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে হলটিতে সিট বরাদ্দ পাওয়া শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেড় বছরের কাজ সাড়ে ৫ বছরে শেষ হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঠিকাদারের কাছ থেকে সম্পূর্ণ কাজ বুঝে না পাওয়া দুঃখজনক।

সরেজমিনে দেখা যায়, তিন তলা বিশিষ্ট হলটির একাধিক রুমের দরজা লাগানো যাচ্ছে না। দেখতে চকচকে হলেও ফিটিং করা যায় না। চৌকাঠগুলো ইতিমধ্যে বাকাঁ হয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি দরজার পাল্লায় ফাকাঁ।

পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, নিম্নমানের চৌকাঠ ও পাল্লা ব্যবহার করার বিষয়টি প্রকৌশল দপ্তরকে জানানো হলে তারা নির্মাণকাজ পাওয়া আবদুর রাজ্জাক জেভিসিএ নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটিকে সর্তক করে। তবে তা আমলে না নিয়ে নিম্নমানের দরজা ব্যবহার করে। পরবর্তীতে প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর। আড়াই মাস সময় পার হলেও এখনো দরজা পরিবর্তন করেননি প্রতিষ্ঠানটি।

পরিবর্তনের বিষয়ে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের উপ-পরিচালক ড. শাহাবুদ্দিন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার লতিফের কাছে শুনেছি কয়েকটি পরিবর্তন করা হয়েছে। বাকিগুলো তারা বলতে পারবে। কারণ এটির বিল প্রকৌশল দপ্তর তৈরি করবে।

প্রকৌশলী আবদুল লতিফ বলেন, তারা যে কাঠ দিয়ে কিছু দরজা পরিবর্তন করেছে তা সন্তোষজনক নয়। আমি বিষয়টি এসি ও পিডি স্যারের মাধ্যমে জানিয়েছি। এছাড়া টেকওভার কমিটি থেকে যখন জানতে চাওয়া হয় তখন ফর্মে আমি বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি। তবে ঠিকাদার জাহাঙ্গীর জানান, সকল কাজ শেষ করে হল হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে নির্মাণ ক্রুটি রেখে হল হস্তান্তর হতে পারে কিনা এমন প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের। হস্তান্তর কমিটির আহ্বায়ক কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, নিম্নমানের চৌকাঠ ও পাল্লা নিয়ে আমি কিছু জানি না।

তবে শর্তসাপেক্ষে হল হস্তান্তর হয়েছে বলে জানান কমিটির সদস্য সচিব বিল্লাল হোসাইন। তিনি বলেন, নিম্নমানের চৌকাঠ ও পাল্লা ব্যবহারের বিষয়ে যেসব অভিযোগ রয়েছে সেগুলো সমাধান না হলে কোন বিল করবে না প্রকৌশল দপ্তর। কাজ শেষ না করে ভবন হস্তান্তর নেয়া যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, শর্তযুক্ত নেয়া যায়।

শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট মো. সাহেদুর রহমান বলেন, হলটি টেকওভার কমিটি বুঝে নেওয়ার পর আমি দায়িত্ব পেয়েছি। কিভাবে তারা বুঝে নিয়েছে আমি জানিনা। নিম্নমানের দরজা ব্যবহারের বিষয়টি যেহেতু জেনেছি আমি অবশ্যই টেকওভার কমিটির সাথে কথা বলে কি করা যায় সেটি দেখবো।

আসবাবপত্র ছাড়া হল উদ্বোধনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে হল উদ্বোধন ও খুলে দেওয়া হয়েছে। ত্রুটিযুক্ত কাজগুলো শেষ করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএফএম. আবদুল মঈন জানান, যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো সমাধান করতে আমরা চিঠি দিয়েছি। এখন কি অবস্থায় আছে সেটি প্রকৌশল ও পরিকল্পনা দপ্তর বলতে পারবে। অসম্পূর্ণ কাজগুলো করতে নারী শিক্ষার্থীরা অস্বস্তিতে পড়তে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোন ঘাটতি থাকবে না। তবে যেহেতু মেয়েরা অস্বস্তিতে পড়তে পারে তাই আমি বলছি যখন মেয়েরা হলে থাকবে না তখন কাজ করতে।