সুশিক্ষা

কুবির সেশনজট নিরসনে রয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা

প্রতিনিধি, কুবি: কভিড-১৯-এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থায়। রোগটি শুধু মানুষের জীবনই কেড়ে নেয়নি, শিক্ষা ব্যবস্থাকে পশ্চাদ্মুখী করেছে। স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে নামমাত্র অনলাইন ক্লাসে চলছে করোনাকালে শিক্ষা কার্যক্রম। পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরি না হওয়ায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে অনলাইন কার্যক্রম। আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিত্র এমনই।

করোনাকালে শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সেশনজট। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শতভাগ সেশনজট মুক্ত করা সম্ভব হয়নি এখনও। সেশনজটের কবলে পড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে হতাশা। একই সময়ে শুরু হওয়া শিক্ষাবর্ষ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সঠিক সময়ে শেষ করতে পারলেও পারছে না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) একাধিক শিক্ষার্থী সেশনজট নিয়ে বলেন, সেশনজটের কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে গেছি। এর সঙ্গে যুক্ত হলো করোনা। এটি আমাদের জন্য খুবই হতাশাজনক। এক বছর পার হয়ে গেল কোনো পরীক্ষায় বসতে পারছি না। অনলাইন ক্লাস চালু থাকলেও তা সেশনজট কমাতে পারবে না যদি পরীক্ষা চালু করা না হয়। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নানা চাকরির পরীক্ষার সার্কুলার প্রকাশ করা হবে। তবে এভাবে চলতে থাকলে আমরা আবেদন করার সুযোগও পাব না। দিন দিন হতাশার মাত্রাটা তাই বাড়ছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ রইল এই বিষয়টি গুরুত্বসহ দেখার জন্য।

কুবি ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল হায়াত বলেন, করোনাকালে এ সংকট পুরোপুরি কাঠিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তবে এর ক্ষতি আমরা কমাতে পারি। অনলাইন ক্লাস সরাসরি ক্লাস রুমে পড়ানোর মতো না হলেও আমাদের ইতিবাচক হিসেবে দেখা উচিত। ১০ মাসের বেশি সময় ধরে অনলাইন ক্লাস চলছে, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সঙ্গে যুক্ত রেখেছে। পরবর্তী সময়ে যখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলে দেয়া হবে, তখন ১৫-২০ দিনের ব্যবধানে আমরা সেমিষ্টার পরীক্ষাগুলো শুরু করে দেব। ফলে নতুন করে ক্লাস নিতে গেলে যে সময়টা লাগত সেটার আর প্রয়োজন হবে না।

এতে করে সেশনজট থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। শিক্ষার্থীদের হতাশ না হয়ে নিজের স্কিল ডেভেলপ করে চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখা উচিত এ সময়। করোনার অনেক নেতিবাচক দিকের মধ্যে ইতিবাচক দিক হলো এটি আমাদের নতুন করে চিন্তা করা এবং আমাদের স্বপ্নগুলোকে নতুন আঙ্গিকে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..