প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কুলাউড়ায় আকস্মিক বন্যায় ২৫ গ্রাম প্লাবিত

আবদুল হাই, মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় আকস্মিক বন্যায় ২৫ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তিন দিনের টানা বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢলে আবার নতুন করে বন্যার দূর্ভোগে পড়েছেন মনু নদের তীরবর্তী বাসিন্দারা। স্থানীয় নদী ও হাওরগুলোতে বেড়ে গেছে পানি। হঠাৎ এ বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আগাম শীতকালীন সবজি ও আমন ধানের। তাছাড়া শীতকালীন সবজির জন্য প্রস্তুত করা জমি তলিয়ে গেছে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে তিন দিনের টানা ভারি বৃষ্টিতে মনু নদের দুটি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুরে চাতলা সেতুসংলগ্ন এলাকা এবং উপজেলার টিলাগাঁও এলাকায় আরও একটি বাঁধ ভেঙে দ্রুত গতিতে ঢলের পানি প্রবেশ করায় ফসলি জমি ও নদীতীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম নিমজ্জিত হয়েছে। হঠাৎ নতুন করে মনু নদীর তীরবর্তী কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর, টিলাগাঁও ও হাজিপুর  ইউনিয়নের প্রায় ২৫টি গ্রামের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সেইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। শরীফপুর ইউনিয়নের কালারায়েরচর, ইটারঘাট ও চারিয়ারঘাট গ্রামে বানের পানি ওঠায় লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন বেড়িবাঁধ এলাকায়। বানের পানির তোড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে চাতলাপুর সেতুর। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বৃষ্টি ও স্রোত অব্যাহত থাকলে সেতুটির বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এমন আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন তারা। স্থানীয় সড়কগুলোও ডুবিয়ে দিয়েছে বানের পানি।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে হালকা আকারে বৃষ্টি শুরু হলেও শুক্রবার ও শনিবার অবিরাম বর্ষণে এবং রোববার হালকা বর্ষণে কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়ন থেকে রহিমপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত সব পয়েন্টে ধলাই নদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। কমলগঞ্জ ও কুলাউড়ায় দুদিনের বৃষ্টিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় আগাম শীতকালীন সবজি ও আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর ব্যাপক হারে শীতকালীন সবজি চাষের জন্য প্রস্তুত জমিতে পানি ওঠায় তা চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, ইউনিয়নের চাতলাপুর বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন মনু নদের বাঁধ ভেঙে দ্রæত ঢলের পানি প্রবেশ করে প্রায় ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি গ্রামের লোকজন ইতোমধ্যে বেড়িবাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। গত রোববার রাত ১২টায় মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ঢলের পানি গ্রামগুলোতে প্রবেশ করতে শুরু করে। পানির স্রোতের আঘাতে চাতলা সেতুও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের আশ্রয় গ্রাম এলাকায় মনু প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ইতোমধ্যে ইউসুপপুর, বালিয়া ও চানপুরের আংশিক এলাকাসহ প্রায় ১০টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছ। একইভাবে বানের পানি প্রবেশ করছে হাজিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামেও।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক জানান, ধলাই নদ ও লাঘাটাসহ সব পাহাড়ি ছড়ার পানি এখন বিপদসীমা অতিক্রম করে দ্রুত গ্রামগুলোতে প্রবেশ করছে। ইসলামপুর ইউনিয়নের কালারায় বিল, শ্রীপুর, পাথারী গাঁও, কানাইদাশী, গুলের হাওর গ্রাম, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ গ্রাম ও ছাইয়াখালি হাওর, পতনউষার ইউনিয়নের কেওলার হাওর, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের রূপশপুর, শমশেরনগর ইউনিয়নের শিরাউলী, মরাজানের পুর ও সতিঝির গাঁওয়ের ব্যাপক এলাকার আমন ও শীতকালীন সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। তাছাড়া শ্রীপুর এলাকার ধলাই নদের পুরোনো ভাঙন দিয়ে দ্রুত ঢলের পানি প্রবেশ করছে গ্রামে। কমলগঞ্জ পৌরসভার আলেপুর গ্রাম এলাকার ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের পুরোনো ভাঙন দিয়েও দ্রুত ঢলের পানি প্রবেশ করছে।