দিনের খবর সারা বাংলা

কুষ্টিয়ায় আমনের বাম্পার ফলনের আশা কৃষকের

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া: শুভ্র শরতের বাসাতে দোল খাচ্ছে দিগন্ত বিস্তৃত রোপা আমন ধানের সবুজ ক্ষেত। অনুকূল আবহাওয়া আর পোকা-মাকড়ের তেমন আক্রমণ না থাকায় চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়ায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকরা বলছেন, বর্তমানে বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় চাষিরা ধান চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তাছাড়া এবার বৃষ্টিপাতের হারও বেশি। ফলে ধান ক্ষেতে সেচসহ অন্যান্য খরচ তুলনামূলক কম হয়েছে।

একই সঙ্গে বৃষ্টির কারণে ধানের প্রবৃদ্ধি ভালো হয়েছে। এছাড়া চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ধানের রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ কম। ফলে এ বছর ধানের ভালো দাম এবং বেশি ফলনের আশা করছেন চাষিরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় ৮৮ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।

কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউপির চুনিয়াপাড়া গ্রামের ধানচাষি মো. মিকাইল হোসেন বলেন, ‘এবার ছয় বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। বিঘা প্রতি সাত থেকে আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি, প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ১৬ মণ ধান পাব।’

তিনি আরও জানান, এ বছর আবহাওয়া বেশ ভালো, চাষিদের অনুকূলে আছে। এবার বৃষ্টিপাতের হার বেশি। ফলে ধানে সেচের জন্য কোনো সমস্যা হয়নি। তাছাড়া আমাদের ক্ষেতের পাশে জিকে ক্যানেল রয়েছে। এই ক্যানেলের পানি দিয়ে আমরা ধান চাষ করি।

একই এলাকার ধানচাষি মো. জিন্নাহ বলেন, ‘এ বছর আমি সাড়ে ছয় বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। আমি নিজেই ধান ক্ষেতের পরিচর্যা করি। পাশাপাশি কিছু শ্রমিক নেওয়া লাগে। এ বছরে আবহাওয়া চাষিদের অনুকূলে থাকার কারণে ধান মাঠে যথেষ্ট ভালো হয়েছে। সুতরাং আশা করছি এবার ধানের ফলন ভালো হবে।’

ধানচাষি আবদুর রহমান মোল্লাহ বলেন, ‘এবার তিন বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের চেহারা অনেক ভালো হয়েছে। আশা করছি, এবার ফলন ভালো হবে।’

একই কথা জানান উপজেলার কেষ্টপুর গ্রামের ধানচাষি ইমারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। ধান চাষে আমার বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার টাকা। আশা করছি, এবার ধান পাব বিঘাপ্রতি ১৫ মণ করে। এছাড়া বর্তমানে ধানের বিচালির দাম অনেক ভালো। সব মিলিয়ে এবার ভালো লাভের আশা করছি।’

স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার মাঠের অবস্থা বেশ ভালো। পোকামাকড়ের আক্রমণ কম। এছাড়া ধানের তেমন কোনো রোগবালাই নেই। যার জন্য এবার ধানের ফলন ভালো হবে আশা করি।’

মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘চলতি বছর কুষ্টিয়া জেলায় ৮৮ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এটা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এবং কৃষকরা এবার ধানের ন্যায্য মূল্য পেয়েছে। যার কারণে তারা ধান চাষে আগ্রহী হয়েছে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..