দিনের খবর সারা বাংলা

কুষ্টিয়ায় আমনের ভালো ফলনে মুনাফার আশা কৃষকের

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া: সোনালি ধানের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে কুষ্টিয়ার গ্রামীণ জনপদ। বর্তমানে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। ইতোমধ্যে অনেক চাষি তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলেছেন। বাকিরাও ব্যস্ত ঝাড়াই-মাড়াইয়ে। জেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের ভালো ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে কৃষকরা এবার ধান থেকে বাড়তি মুনাফা করতে পারবেন বলে আশা করছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় ৮৮ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, জেলার বিপুল-সংখ্যক কৃষক এবার আমন ধানের চাষ করেছেন। ধানের ফলনও আশানুরূপ হয়েছে। এখন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে ধানের যে বাজারদর চলছে তা শেষ পর্যন্ত থাকলে সবাই লাভবান হবেন বলে তারা আশা করছেন।

কুষ্টিয়ার মিরপুর গ্রামের ধান চাষি চাঁদ আলী বাদশা বলেন, ‘এবার ১৫ কাঠা জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ করেছিলাম। সব মিলিয়ে ধানের ভালো ফলন হয়েছে। আশা করি, এবার ভালো দামে বিক্রি করতে পারব।’

চিথলিয়া গ্রামের চাষি আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর দুই বিঘা জমিতে ধান চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি গড়ে ২০ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে। তবে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারলে ন্যায্যমূল্য পাব বলে আশা করছি।’

আর দৌলতপুর উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের ঝাউদিয়া গ্রামের কৃষক নজিবুল ইসলাম বলেন, ‘এবার পাঁচ বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। খরচ বাদ দিয়ে ধান চাষে এবার লাভের আশা করছি।’

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সজিব আল মারুফ বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করবে। সেক্ষেত্রে তারা ধানের ন্যায্য মূল্যও পাবে এমন আশা করছি।’

মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা বলেন, এ বছর আবহাওয়া, বৃষ্টি, তাপমাত্রা সবকিছু ধান চাষের অনুকূলে ছিল। এছাড়া পোকামাকড়ের আক্রমণ কম ছিল। এ কারণে ধানের ফলন এবার আশা করছি অনেক বেশি হবে। এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে গড়ে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ টন ধান কৃষক পাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের নির্ধারিত মূল্য এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০ টাকা। এ মূল্যে যদি কৃষকরা ধান বিক্রি করতে পারেন তাহলে তারা অনেক লাভবান হবেন। আমরা কৃষকদের সার্বক্ষণিক সাহায্য সহযোগিতা এবং বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করছি। এতে আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতেও কৃষক ধান চাষে আগ্রহী হবেন।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..